নদী বা খালের মধ্যে বর্জ্য নিক্ষেপ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

| রবিবার , ১৭ মে, ২০২৬ at ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

মেগা প্রকল্পের বাইরে ৩৫ টি খাল এবং ড্রেন পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। বিশেষ করে খালের সঙ্গে সংযুক্ত ড্রেন পরিষ্কার করে বৃষ্টির পানি নালা হয়ে খালে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করবে চসিক। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোর মুখ পরিষ্কার রাখবে।

নগরের সকল খাল ও পানি নিষ্কাশন নালাসমূহ সারা বছর সচল রাখাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের সমন্বয়ের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে টাইগারপাসস্থ নগর ভবনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির প্রধান সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সভায় সিটি মেয়র ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামসুল আলম আগামী বর্ষায় নগরের জলাবদ্ধতা পূর্বের তুলনায় ৮০ শতাংশ কমানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্যে কাজ করছেন বলেও জানান।

দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ৫ মে নগরের ৭টি খালে চলমান কার্যক্রম বিষয়ে পৃথক সাতটি কমিটি গঠন করে চসিক। কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে পৃথক রিপোর্ট জমা দেয়। যেখানে নগরের বিভিন্ন খালে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়।

ডা. শাহাদাত বলেন, গত বর্ষার চেয়ে যাতে আগামী বর্ষায় ভালোভাবে থাকতে পারেন সে চেষ্টা করছি। গত বছর ৫০৬০ ভাগ জলাবদ্ধতা আমরা কমাতে সক্ষম হয়েছি। এবার ইনশাল্লাহ আমাদের কমিটমেন্ট ৭০৮০ ভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম। আমরা এই ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। মেয়র বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্তমানে আমাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শত্রু। এসব বর্জ্য পানিতে মিশে না গিয়ে নালাখালে জমে পানি চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে কর্ণফুলী নদী ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে। নগরবাসীকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। মেয়র বন্দর প্রতিনিধির উদ্দেশে বলেন, আপনারা ড্রেজিং ঠিকভাবে করছেন? বিশেষ করে খালের মুখ পরিষ্কার করা, এটা আপনাদের দায়িত্ব, আপনাদের করতে হবে।

সভায় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামসুল আলম বলেন, গত বছর ৬০ শতাংশ সমস্যার সমাধান করেছি। এই বছর টার্গেট নিয়েছি ৮০ শতাংশ এবং যে টার্গেট নিয়েছি সেটা এ বছর করব। এটার জন্য যদি সিটি কর্পোরেশনের জায়গাও পরিষ্কার করতে হয়, করব। তিনি বলেন, এই জানুয়ারিতে চেষ্টা করব ৩৬ খাল সম্পূর্ণ করে মেয়রকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতাকে ৮০ শতাংশ কমাতে যা যা করার আমরা করাবো। ৩৬টা খাল মিলে ১১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পুরোটাকে আমরা গতিশীল করে দেব। এ বিষয়ে যে কোনো সহযোগিতার জন্য আমাদের জানালে আমরা পদক্ষেপ নেব।

জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে মুক্ত হতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা পত্রিকান্তরে। তাঁরা বলেন, পূর্বের মাস্টারপ্ল্যানের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সময়োপযোগী আধুনিক বাস্তবসম্মত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা দরকার। তাছাড়া দখলকৃত নালাখাল উদ্ধার করে চট্টগ্রাম শহরের প্রকৃত ড্রেনেজ ডাটাবেজ প্রণয়ন করা, বিদ্যমান খাল ও নালার ওপর প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিতকরণ ও অপসারণ করা প্রয়োজন। নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খাল পরিষ্কার ও বিদ্যমান খালের প্রশস্ততা বৃদ্ধি করাও জরুরি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয় থাকা দরকার। একটি সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে এসব সংস্থাকে কাজ করতে হবে। তাহলে পরিকল্পিতভাবে সকল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা যাবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু খাল পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়, বরং পরিষ্কারের পর সেগুলোর নিয়মিত তদারকি ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। নদী বা খালের মধ্যে বর্জ্য নিক্ষেপ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নালা ও খাল অবৈধ দখল ও ভরাট থেকে রক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক প্রচারণার ব্যবস্থা করা দরকার। যত্রতত্র অপরিকল্পিত স্থাপনা যেন গড়ে না ওঠে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নাগরিক অসচেতনতার বিষয়টির প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে