প্রান্তিক অঞ্চলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগে সহযোগিতা চাই

| বুধবার , ১৩ মে, ২০২৬ at ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ

পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। সোমবার বিকেলে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক সেবার মান আরো উন্নত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা, রোগীদের উপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালনসহ সার্বিক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সেবার মান সম্পর্কে মতামত নেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, পুরুষ ওয়ার্ড, নারী ও শিশু ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, স্টোর রুম এবং বহির্বিভাগ পরিদর্শন করেন। চিকিৎসকদের রোগীদের প্রতি আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আবাসিক এলাকার স্থাপনা উন্নয়নের আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনাকে আমরা অভিনন্দিত করছি। কেননা, গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বাংলাদেশে সবার জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও অঙ্গীকার প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্যের তথ্য অনুসারে বাংলাদেশের ৪২ শতাংশ মানুষ এখনো সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বাইরে, যা ২০৩০ সালে ১৮২২ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ডব্লিউএইচও। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটির প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় এসেছে। এছাড়া পাকিস্তানের ৫১, নেপালের ৫৯, মালদ্বীপ ও ভুটানের ৬৫ শতাংশ মানুষ এ সেবা পাচ্ছে। তবে পিছিয়ে রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির মাত্র ৪৫ শতাংশ মানুষ এ সেবার আওতায় রয়েছে। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সিঙ্গাপুরের ৮৬ শতাংশ মানুষ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা পায়। এছাড়া থাইল্যান্ড ৮৩, ভিয়েতনাম ৭৩, ইন্দোনেশিয়া ৭১, মালয়েশিয়া ৭৭ এবং মিয়ানমারের ৬৪ শতাংশ মানুষ এ সেবার আওতায় এসেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসব দেশের মানুষ ৭৫৯৫ শতাংশ পর্যন্ত সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। দেশের সব মানুষের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে যথাযথ উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা।

অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান স্বাস্থ্যখাতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলেছিলেন, আগে আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’। এখন ওই আকাঙ্ক্ষায় নতুন কিছু শব্দ যোগ করতে হয়েছে। এখন আমরা বলছি ‘সবার জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্য’। আগে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ বললে বোঝা যেত দেশের মোটামুটি সব জায়গায় হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র বানালেই হয়ে গেল। এখন কিন্তু আমাদের ‘মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্য’ বলতে হচ্ছে। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ বলতে যে আকাঙ্ক্ষার কথা আমরা বলে এসেছি, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে দিনবদলের কারণে আকাঙ্ক্ষাটাকেও এখন আমাদের নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। তিনি বলেছেন, এখন স্বাস্থ্য খরচ অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। সরকারি হিসাবের তথ্য বলছে, আমাদের স্বাস্থ্যের পেছনে যত খরচ হয়, তার ৬৭ শতাংশই মানুষ নিজের পকেট থেকে খরচ করছে। অথচ বৈশ্বিক মান হচ্ছে ৩৪ শতাংশের মতো। তার প্রায় দ্বিগুণ আমরা খরচ করছি। আমাদের কাছে স্বাস্থ্য খরচ একটা বড় বোঝা। স্বাস্থ্যসেবার খরচের বিষয়টি আমরা ঠিকমতো স্বীকার করি না বলে দারিদ্র্য হ্রাসের গতি কমে যাচ্ছে বা দারিদ্র্য বেড়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্যবিমোচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

আসলে সকলের জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণের বিষয়টি অর্থনৈতিক মুক্তি, সুশাসন, পরিবেশ ইত্যাদি অনেক কিছুর সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সবর্জনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬