পানির নিচ দিয়ে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ স্টিলের তার, বৈদ্যুতিক মোটর ও কপিকল ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের নতুন কৌশলের সন্ধান পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে ডুবন্ত কনটেইনার টেনে আনার এ কৌশল উদঘাটিত হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়ায়। পৃথক দুটি অভিযানে তিনজনকে আটক করেছে বিজিবি। এ সময় ২ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম। বিজিবি জানায়, মাদক কারবারিরা মিয়ানমারে কাঠ দিয়ে বিশেষ ধরনের ডুবন্ত বাক্স (কনটেইনার) তৈরি করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাক্সটির ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা পরিবহন করা সম্ভব।
বিজিবি জানায়, গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়ায় মনিরের ঘেরের মাচাংঘরের পাশে চার থেকে পাঁচজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে পালংখালী বিওপির টহল দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে বেলাল উদ্দিন (৩৫) ও খোরশেদ আলমকে (২৬) আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি এবং ডুবন্ত বাক্স তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এসব সরঞ্জামের মধ্যে ছিল স্টিলের তার, কপিকল, বৈদ্যুতিক মোটর ও ব্যাটারি।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার ভোর তিনটার দিকে বালুখালী বিওপির সদস্যরা সোহেলের ঘের এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রকি আহমেদকে (২৬) ২ লাখ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন। একই সময়ে পালংখালী এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় আরও ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বিজিবির কঠোর তৎপরতার কারণে মাদক কারবারিরা পাচারে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। গত ৯ সেপ্টেম্বরও একই এলাকায় রশি দিয়ে পানির নিচে ডুবিয়ে ১৪ লাখ ইয়াবা আনার সময় তারা আটক করেছিলেন। এবার পাচারকারীরা আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।
বাক্সটি কীভাবে আনা হতো, সে বিষয়ে বিজিবির অধিনায়ক জানান, পানির নিচ দিয়ে বাক্সটি টেনে আনতে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ স্টিলের তার, নয়টি কপিকল, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়। মোটরের সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার টেনে বাক্সটি বাংলাদেশের দিকে আনা হতো।
নাফ নদী পেরিয়ে পালংখালীর ফাইস্যা খাল দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকত পাচারকারীরা। খালটি আঁকাবাঁকা হওয়ায় বিভিন্ন অংশে কপিকল ও তার ব্যবহার করে বাক্সটি টেনে আনা হতো। এ সময় একজন পাচারকারী পানিতে হাত দিয়ে মাছ ধরার ভান করে বাক্সটির সঙ্গে এগিয়ে আসতেন। খালের প্রতিটি বাঁক পার হওয়ার সময় ছোট কপিকল খুলে নেওয়া হতো, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়ানো যায়। বিজিবি অধিনায়ক বলেন, এটি ছিল পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর পাচার কৌশল।











