আজ কয়দিন যাবৎ সারা দেশে একটি শব্দ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, দেয়ালে চিকা, মানব বন্ধন, স্লোগান। ‘প্রথমে ধর্ষণ এর পর খুন’। ম্যাজিকের মত ঘটছে একটার পর একটা ধর্ষণ এবং খুনের কর্মকাণ্ড। পত্রিকা, ইলিকট্রিক মিডিয়া, ফেইসবুক এর মাধ্যমে নিয়ে আলোড়ান সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রামিসার বিষয়টি সকল শিশুর মনে দাগ কেটেছে। ৯– ১০ বৎসরের শিশুরা ধর্ষণ ‘শব্দের অর্থ ভালো ভাবে বুঝতে না পারলেও দুটি শব্দ নিয়ে ওরা আলোচনা করছে শিশুর গলাকাটা, খুন মোট কথা শিশুদের সাথে খারাপ কিছু ঘটেছে। পরিবারের অভিভাবক থেকে শুরু করে স্কুলের শিক্ষকরাও শিশুদের অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। (যদিও এটা ফেইসবুকের বদৌলতে, শিশু বয়স থেকে এরা সব কিছু রপ্ত করছে) রামিসাকে ইতিমধ্যে সবাই চিনে গেছে। তবে প্রশ্ন হলো যে লোকটি দ্বারা এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, তার চেহারায় তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু নজরে পড়েনি। একটা হতভম্ব নির্বিকার ভাব। যদি সত্যি সত্যি বিষয়টা যদি তা হয় তাহলে ভাবতে হবে সে কারো প্ররোচনায়, টাকার বিনিময়ে, কিংবা মাদক সেবনের মাধ্যমে কাজটা করেছে। সাথে জাকেরের স্ত্রী ও স্বামীর অপকর্মে সামিল ছিল। জাকেরের স্ত্রীর বয়স, দেখে মনে হলো আহামরি কিছু না যে, সে তার স্বামীকে খুশী রাখতে পারে না। তাহলে আমরা কি ভাবতে পারি না? তারা পরিকল্পিতভাবে টীম ওয়ার্কের মাধ্যমে জঘন্য কাজটা করেছে? ইতিমধ্যে অন্যান্য অঞ্চলেও শিশুদের ধর্ষণ করা হয়েছে, হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে অনেকগুলো শিশুর..। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কে বা কারা বা কাদের নির্দেশে এই কাজগুলো করছে, কেন করছে? এর মাধ্যমে এরা কী হাসিল করতে চায়! কিংবা কীসের প্রতিশোধ নিতে চায়। আবার এমনও হতে পারে ইউটিউব চ্যানেল এ নিষিদ্ধ করা বিষয়গুলো ভবঘুরেরা মনোযোগ দিয়ে দেখছে এবং বাস্তবে প্রতিফলিত করছে? এখন ইলিকট্রনিক মিডিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। পথে– প্রান্তরে, অলিতে–গলিতে, সিসি ক্যামেরা। ঐগুলো কারা অপারেট করছে। এ ছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে দেশ রক্ষকরাও আছেন, যাঁদের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা দেয়া কারণ, জনগণের টেক্স থেকে বিপুল অংশ তাঁদের জন্য খরচ করা হয়। এরপরও দেশের শিশুরা নিরাপত্তাহীন কেন? রামিসার পরিবারে সমবেদনা জানাতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী গেছেন তাদের পরিবারের কাছে। এটা আমাদের জন্য আশার আলো। এছাড়া পত্র– পত্রিকা, ফেইসবুকে ধর্ষণ, হত্যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, অপরাধী হাজত বাস করবে। শাস্তির তারিখ পড়বে। কিন্তু শাস্তি কেমন হবে, কখন হবে, এটা কেউ সঠিক ভাবে জানে না। এমনও হতে পারে অপরাধীর টিম যদি নেপথ্যে থেকে কাজ করে, তাহলে অপরাধীর শাস্তিও কমে যেতে পারে। এই যেমন, ফাঁসি কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে রেহাই পেয়ে যাবে। কারণ বাংলাদেশে এই ব্যবস্থা আমরা অনেক দেখেছি, দেখছি। তবে এক সরকারের আমলে অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হতে দেখেছিলাম। পরকীয়া স্বামী, নিজের স্ত্রী কে কক্সবাজার পর্যন্ত বেড়াতে নিয়ে যায়, আসার পথে কাঁচপুর ব্রিজের কাছাকাছি মিজমিজি গ্রামে হত্যা করে ফেলে দেয়। স্ত্রীর পরিবার শক্তিশালী থাকায় স্বামীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল। এখন শিশু–বালিকা, কিশোরী, এদের নিরাপত্তা দিতে হলে সরকার খুব দ্রুত গতিতে অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অপরাধীকে শিক্ষা দিতে হলে অপরাধীর প্রিয় জিনিসে হাত দিতে হবে। যেমন ঢ়বহরং কে াধংবপঃড়সু করে দেয়া। এতে করে দেশের জন্য দুটো লাভ হবে। একটি হচ্ছে ওরা সন্তান জন্ম দিতে পারবে না এবং দেশের জনসংখ্যা সীমিতকরণ হবে। মেয়েদের অধিক সন্তান জন্ম না নেয়ার জন্য বন্ধাত্বকরণ করা হয়। সেটাও হ্রাস পাবে। এ ধরনের ধর্ষণের কাজে যারা লিপ্ত হয়, তাদের সাথে সাথে ধরে নিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ না করে হাসপাতালে নিয়ে ঠধংবপঃড়সু করে দেয়া। এতে করে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে না। সরকার কে জবাবদিহি করতে হবে না । প্রতিটি অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে এটির জন্য একটি বিশেষ কক্ষের ব্যবস্থা রাখা বাঞ্ছনীয়। সরকার যদি দৃঢ়ভাবে কারো প্ররোচনায় কান না দিয়ে এই বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারেন, তাহলে এ দেশে কোন মা বাবা সন্তান হারানোর যন্ত্রণায় দগ্ধ, হবে না।
লেখক : অধ্যক্ষ, সমাজসেবী।












