দেশের প্রথম ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনভেশন সেন্টারের অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে নির্মিত ওশান স্যাটেলাইট ভিত্তিক অত্যাধুনিক সেন্টারটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আগামী জুন মাসের ৯ তারিখে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে সেন্টারটি কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৫ সদস্য বিশিষ্ট চীনা প্রতিনিধি দল ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতের পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
২০২৫ সালের ২৬ মার্চ শুরু হওয়া এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন সরকার প্রযুক্তি স্থাপন ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে যার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা প্রদান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিচালনা ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সহায়তা করেছে। বর্তমানে স্টেশনটির অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রায় ৪২০ টেরাবাইট ডেটা সংরক্ষণ সক্ষমতাসম্পন্ন এই ডাটা সেন্টারটি মোট ১১টি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, যার মধ্যে প্রায় ৭টির সঙ্গে আংশিক সংযোগ স্থাপন করা গেছে। বর্তমানে চীনের একাধিক স্যাটেলাইট থেকে উচ্চমানের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি জাপান ও নাসার স্যাটেলাইট থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোন স্যাটেলাইট থেকে কোন ধরনের তথ্য সবচেয়ে কার্যকরভাবে পাওয়া যাবে, তা নির্ধারণের পাশাপাশি তথ্য বিশ্লেষণের জন্য বিশেষ সফটওয়্যার তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।
গ্রাউন্ড স্টেশনটি চালু হলে দেশের আবহাওয়া পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, বন উজাড়সহ পরিবেশ–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এসব তথ্য সংগ্রহে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ওপর নির্ভর করতে হয়, যেখানে তথ্য পেতে সময় লাগে ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা। তবে এই স্টেশন চালু হলে সেই সময় কমে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটে নেমে আসবে। ফলে সাইক্লোন ট্র্যাকিং, উপকূলীয় বন্যা মডেলিং, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্লেষণসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
প্রকল্পটির সমন্বয়ক চবির সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন বলেন, এই ডাটা সেন্টার মূলত একটি ডাউনলিংক স্টেশন, যেখানে শুধুমাত্র তথ্য গ্রহণ করা হয়, আপলিঙ্ক করার সুযোগ নেই। এর মূল লক্ষ্য বাণিজ্যিক নয়, বরং গবেষণা ও শিক্ষার প্রসার। তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা নির্ধারিত নিয়মে গবেষণা প্রস্তাব জমা দিয়ে এখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন নামমাত্র সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে, যা একাডেমিক গবেষণা ও প্রকাশনা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
এই ডাটা সেন্টারটি দেশের নীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) বিকাশেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, স্রোতের গতি ও ক্লোরোফিল ঘনত্ব বিশ্লেষণের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য মাছ ধরার অঞ্চল (পটেনশিয়াল ফিশিং জোন) নির্ধারণ করা যাবে।














