দুর্বল বিচার, বাড়ছে ছিনতাই ও মাদক

নুরুল মুহাম্মদ কাদের | মঙ্গলবার , ৫ মে, ২০২৬ at ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

সমপ্রতি একজন কাস্টম অফিসার খুন হলো। সংসার জীবনে তার একটি শিশু সন্তান আছে। শিশু সন্তানটি একবছর পূর্তির পূর্বেই বাবাকে হারালো। স্বামীর নিথর দেহে স্ত্রীর শেষ আলিঙ্গন পুরো বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এ দেশে কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ও ডাকাতের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষ অহরহ হত্যাকাণ্ড ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আত্মীয়স্বজন লাশ ধরে কান্না করছে। যার গেছে সেই বোঝে হারানোর যন্ত্রণা। কত মায়ের বুক খালি হচ্ছে, কত মেয়ে স্বামীহারা হচ্ছে, কত ছেলেমেয়ে বাবা হারা হচ্ছে তার হিসাব ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ মনে রাখে না। শোকাহত হয়ে যারা বেঁচে আছে তারা সবাই অর্ধমৃত।

ছিনতাইকারী, মদদি, জুয়াড়ি দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে। মাদকের নেশার টাকা জোগাড় করতে তারা মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। নেশাখোর ছিনতাইকারী সামান্য টাকার জন্য জীবন কেড়ে নিচ্ছে। মাদক দেশে এমনভাবে সয়লাব করছে যে এখন বস্তিসহ কিছু পরিবারের সবাই মাদক সেবন ও ব্যবসার সাথে জড়িত। পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে দিনদুপুরে মাদক সেবন ও ব্যবসা চলছে। মোবাইল আসক্তির মতো মাদকের আসক্তিও পারিবারিক হয়ে উঠছে। শহরে একই জায়গায় বারবার ছিনতাই হচ্ছে। ছিনতাইয়ের কবল থেকে রক্ষা পেলে সাধারণ মানুষ আল্লাহর অশেষ দয়া মনে করে। মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নাই, আছে শুধু মানুষরূপী কীটপতঙ্গের দাপট। কে কাকে খুন করছে, কেন করছে অনেক সময় ভুক্তভোগীর পরিবারও জানে না। খালেবিলে, রাস্তার ধারে, বস্তাবন্দি কিংবা দেহখানি কয়েক টুকরো করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হচ্ছে।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন : পত্রিকার খবরের সূত্র ধরে খুনের আসামি ধরা পড়ে। আবার জামিনে মুক্তি পায়। মুক্তি পেয়ে তারা আবার অপরাধে ফিরে যায়। এ চিত্র দেখে সবার মনে প্রশ্ন জাগে গ্রেফতার করে লাভ কী? জনগণের টাকায় গ্রেফতার, জনগণের টাকায় জেলখানায় বসে খাওয়া ছাড়া আর কিছু হয় না। জামিনে বের হয়ে সন্ত্রাসীরা মুক্ত পরিবেশে জনসম্মুখে চলাফেরা করে। আবার আদালতে এসব ঘটনায় কিশোর বয়স, আইনের ধারা, ভালোমন্দ তালগোল পাকিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। এ বাস্তবতায় গ্রেপ্তার হওয়া মানে অপরাধীর শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে ভুক্তভোগীরা ভয়ে চুপ থাকে। বিচার চেয়ে লাভ নাই মনে করে আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেয়। অপরাধীদের তাৎক্ষণিক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না থাকায় এমনটা হচ্ছে।

কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহতা: সমপ্রতি কিশোর অপরাধীদের চক্র বা কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। কাদের ছত্রছায়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তার তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তায় কিশোর গ্যাং নির্মূলে সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং কম্বিং অপারেশনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সংস্পর্শে কিশোর গ্যাং সংঘবদ্ধ হয়ে প্রভাব বিস্তার করছে কিনা তা বিবেচনায় নিতে হবে। পারিবারিকভাবে সন্তানদের সঠিক মূল্যবোধ শেখানো এবং তাদের চলাফেরার প্রতি গভীর নজর রাখা জরুরি। খারাপ ব্যক্তি ও গ্রুপের প্রভাব থেকে শিশুকিশোরদের আলাদা রাখা আবশ্যক। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র একসাথে কাজ করলে তবেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব।

মানুষের জীবনের মূল্য নেই এমন ধারণা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার সবাইকে একসাথে হয়ে এই দুষ্টচক্র দমন করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে কেউই নিরাপদ থাকবে না, আর দেশ চরম অরাজকতার দিকে ধাবিত হবে। এখনই সময় যাবতীয় অপরাধ দমন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরেস্টুরেন্টের পরিবেশে শালীনতা নিশ্চিত করা হোক
পরবর্তী নিবন্ধআতশ কাচ