খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ফসল ও সড়ক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শতাধিক মাটির ঘর ধসে গেছে। গত শুক্রবার মধ্যরাতে ভারী বর্ষণে বন্যায় তলিয়ে যায় নিম্নাঞ্চল। পাহাড়ি ঢলে বোয়ালখালী খালের পানি বেড়ে স্রোতের তোড়ে ভেসে যায় অনেক ঘর বাড়ি। দীঘিনালার জামতলী, মায়াফাপাড়া, সুধির মেম্বারসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত শতাধিক মাটির ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দীঘিনালার জামতলী গ্রামের বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, আমার ঘর বাড়ি সব ডুবিয়ে ফেলছে। আমি কিছু বাইর করতে পারি নাই। ঘর ভেঙে গেছে। আধা ঘণ্টা সময় লাগে নাই। রাতে তিনটার পরে পানি আসে, সব বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। একই এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, কেউ একটু সুযোগ পায় নাই যে ঘরের জিনিসপত্র বের করব। আমাদের বাড়ি নদীর পাড়ে, হু হু করে পানি ঘরের মধ্যে ঢুকে গেছে। বেড়া ভেঙে আমার ঘরে কিছুই নাই।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুন্নবী হোসেন বলেন, এই এলাকায় একসাথে তিনটা বাড়ি ধসে গেছে। আগে কখনো এমন পরিস্থিতি হয়নি। পানির তোড়ে মাটি দিয়ে তৈরি ঘর ভেঙে গেছে। বোয়ালখালী ছড়ার পানি আশপাশের পুরো এলাকা প্লাবিত করে দিয়েছে। ছড়া তীরবর্তী ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বেশি হয়েছে। একশ উপরে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। ঘরবাড়ির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমি।
দীঘিনালার মধ্য বোয়ালখালী গ্রামের কৃষক সুবিমল চাকমা বলেন, আমাদের প্রায় অধিকাংশ জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, কিন্তু আমরা সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাইনি। ধানের জমি প্রায় ক্ষতিগ্রস্ত, পানিতে তলিয়ে গেছে।
দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, দীঘিনালায় পাহাড়ি ঢলে আমন ক্ষেত, আউশ এবং গ্রীষ্মকালীন সবজিসহ মোট ১৬০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এছাড়া সদর ও পানছড়ি উপজেলা মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭৮ হেক্টর। দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানজিল পারভেজ বলেন, সামপ্রতিক বন্যায় দীঘিনালার উপজেলার জামতলী, মায়াফাপাড়া, জামতলী, বাঙালীপাড়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একদম রাত শেষ রাতের দিকে অনেকে আকস্মিকভাবে দেখেন যে তাদের ঘরের ভেতরে পানি চলে আসছে। অনেকেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং ওই এলাকাটিতে অধিকাংশ মাটির ঘর ছিল। যার ফলে এই পানি আসার ফলে ঘরগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আনুমানিক হিসাবে ধরা যাচ্ছে যে প্রায় শতাধিক ঘর ওই এলাকাটিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি। আমরা অ্যাসেসমেন্ট করার চেষ্টা করছি ঠিক কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অ্যাসেসমেন্টের কাজ এখনও চলমান। কাজটি শেষ করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আমরা সরকারি বরাদ্দ বিতরণ করব। ইতোমধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে শুকনো খাবারও বিতরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।











