উত্তর কোরিয়ার কাছে বড় হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশের সামনে। একাদশে ছয়জন সিনিয়র ফুটবলারকে ফিরিয়ে এনে রক্ষণাত্মক কৌশলে দল সাজিয়েছিলেন কোচ পিটার বাটলার। কিন্তু ফিফা র্যাংকিংয়ে ৯৪ ধাপ এগিয়ে থাকা শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিরোধই কাজে আসেনি। গোলরক্ষক রুপনা চাকমার দারুণ কিছু সেভের পরও ৬–০ গোলের বিশাল হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাল–সবুজের প্রতিনিধিদের। ম্যাচের ১৬ মিনিটেই কিম মিন–জির গোলে লিড নেয় দক্ষিণ কোরিয়া। পিছিয়ে পড়েও রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয় বাংলাদেশকে। ৩৩ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে কোরিয়ার নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন রুপনা ও ডিফেন্ডাররা। দুই মিনিট পর চু হাইজুর দূরপাল্লার বুলেট শটও দারুণ দক্ষতায় ফিস্ট করে ফেরান বাংলাদেশের অতন্দ্র প্রহরী রুপনা। তবে ৪২ মিনিটে প্রতি–আক্রমণ থেকে জং দা–বিন ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ২–০ স্কোরে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির ঠিক আগে দা–বিনের আরও একটি হেড দারুণভাবে গ্লাভসবন্দি করেন রুপনা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। মনিকা ও ঋতুপর্ণাদের পাসিং ফুটবলে খেলায় কিছুটা গতি ফেরে। ৫৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা আনিকা সিদ্দিকী বাঁ প্রান্ত দিয়ে দারুণভাবে বক্সে ঢুকে পড়লেও শট নিতে দেরি করায় কোরিয়ান গোলরক্ষক তা আটকে দেন। দুই মিনিট পর ম্যাচের সবচেয়ে সেরা সুযোগটি পায় বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে আনিকাকে চমৎকার থ্রু পাস বাড়ান শামসুন্নাহার জুনিয়র। আনিকার টপ কর্নারে নেওয়া দুর্দান্ত শটটি অবিশ্বাস্যভাবে কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক। পরপর দুটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো ৬৫ থেকে ৭৯ এই ১৪ মিনিটের ঝড়ে তছনছ হয়ে যায় বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ৬৫ মিনিটে জি সুউনের রক্ষণচেরা পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ৩–০ করেন বদলি নামা চোয়ি ইউরি। ৭৩ মিনিটে বক্সের বাইরে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন রুপনা। তবে বিপজ্জনক সেই ফ্রি–কিক তিনি নিজেই রুখে দেন। কিন্তু ৭৭ মিনিটে হিউন সুলগির উঁচু ক্রসে লাফিয়ে উঠে বল জালে জড়ান জি সুউন। দুই মিনিট পর নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে স্কোরলাইন ৫–০ করেন চোয়ি ইউরি। আর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কো ইউ–জিনের গোলে হাফ ডজন গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ কোরিয়া।













