নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকার মিমি সুপার মার্কেটের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি ওজনের ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ১৪ আগস্ট নিউ কনক বাহার জুয়েলার্সে আত্মসাতের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স দোকানের কর্মচারী রোমেন দে (৩৬), শ্যামল সিংহ (৪৭), জয় দে (২২), রনি দে (২৮), স্বপ্না দে (৫৫) ও ইমন দে (১৯)।
পুলিশ জানায়, বিপ্লব বসাকের মালিকানাধীন নিউ কনক বাহার জুয়েলার্সের গত ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন রোমেন দে। গত ১৪ আগস্ট দুপুরে দোকানের স্টাফরা নিয়মিত মজুদ স্টক মিলাতে গিয়ে স্বর্ণের অলংকারের হিসাবে অসঙ্গতি দেখতে পান। বিষয়টি তারা মোবাইল ফোনে দোকানের মালিককে জানান। খবর পেয়ে মালিক দ্রুত দোকানের উদ্দেশ্যে রওনা হলে বিষয়টি আঁচ করতে পারেন সেলসম্যান রোমেন দে। এরপর ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে দোকান থেকে পালিয়ে যান তিনি। পরে দোকানে এসে মালিক ও অন্য স্টাফরা মজুদ মিলিয়ে দেখতে পান–রোমেন দের দায়িত্বে থাকা সাতটি বঙে রাখা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি নেই। এসব চুড়ির পরিবর্তে সেখানে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ৫৩টি চুড়ির আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা। এ ঘটনায় পরদিন ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন দোকানের মালিক বিপ্লব বসাক।
মামলার তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তি ও গুপ্তচর সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চুড়িগুলো বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ও স্বর্ণ বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে বন্ধক রাখার কথা জানান রোমেন দে। জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন দে জানান, আত্মসাৎ করা ৫৩টি চুড়ির মধ্যে ৪৬টি চুড়ি বাকলিয়া থানাধীন মিয়াখান নগর রোডের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’র মালিক শ্যামল সিংহের (৪৭) কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট রাত ৮টার দিকে বোয়ালখালী থানাধীন কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মিয়াখান নগর রোডে তার মালিকানাধীন ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’ থেকে ৭টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। শ্যামল সিংহকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য পাওয়া যায়। তিনি জানান, তার কাছে বন্ধক থাকা বাকি স্বর্ণের চুড়িগুলোর একটি অংশ তিনি বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে দিয়ে রেখেছিলেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে মর্ডাণ রিনা জুয়েলার্স থেকে ৩টি, সাহা জুয়েলার্স থেকে ১৬টি, লিটন মহাজন থেকে ১টি, সাগর কারিগর থেকে ৫টি, পার্থ মহাজন থেকে ১১টি এবং রুবেল মহাজন থেকে ৩টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে রোমেন দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এর মধ্যে বাকলিয়া থানাধীন মর্ডাণ রিয়া জুয়েলার্স থেকে ৩টি ও শাহ আমানত জুয়েলার্স থেকে ৩টি, চকবাজারের ফেন্সী জুয়েলার্স থেকে ২টি ও তাজমহল জুয়েলার্স থেকে একটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন দে জানান, নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স থেকে সোনার চুড়িগুলো সরিয়ে দোকান কর্মচারী রোমনে দে কয়েকটি জুয়েলার্স ও বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছে রেখে টাকা নিয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় বন্ধক রাখা সোনার চুড়ি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।











