জীবন: সুখ-দুঃখের অবিরাম পালাবদল

ইসমত আরা খানম কোহিনূর | রবিবার , ৪ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

জীবন! হাসি–কান্না, সুখ–দুঃখ, চাওয়া–পাওয়া, তৃপ্তি–অতৃপ্তির অপূর্ব সমাহারের নাম! হাজারো বিচিত্র ঘটনা প্রবাহের সমন্বয়ে লিখিত এক একটা ইতিহাস। কিন্তু জীবন ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় সুখপাঠ্য নয়। কোথাও আলো ঝলমলে প্রভাতের মতো স্নিগ্ধ, সরল, সমৃদ্ধ। কোথাও কালবৈশাখীর উন্মাতাল ঝড়ো–হাওয়ায় দুমড়ে মুচড়ে দেয়া ধ্বংসাত্মক মধ্যাহ্নের মতো করুণ। কখনও বা কলকল, ছলছল বয়ে চলা নদীর মতো। কোথাও অগুনিত ভয়ানক বাঁক, দুর্দান্ত চড়াই–উতরাই বন্ধুর!

জীবন কখনো শ্রাবণের ধারায় প্লাবিত করা অকুল মেঘনা, কখনো বা দারুণ খরস্রোতা তটিনীর মতো…কখনো দিঘির নিটোল জলের মতোই শান্ত, স্নিগ্ধ, তরঙ্গহীন….

জীবন মানেই অনাকাঙ্ক্ষিত বালা মুসিবত, রোগ– শোক, উত্থান–পতনের এক নিরবচ্ছিন্ন পরিক্রমা।

সুখ দুঃখের খুনসুটিতে এই পৃথিবীতে মানুষের জীবন এক বিস্ময়কর সফর। যেমন রেলষ্টেশন এর অগুনিত যাত্রী নিরন্তর অপেক্ষায় থাকে কখন আসবে ট্রেন। কেউ আসছে, কেউ যাচ্ছে যে যার মতো। নশ্বর এই পৃথিবীতে আমরাও সবাই অপেক্ষমাণ পথিকের মতো। ওপাড়ে পাড়ির ডাকের অপেক্ষায় ….এই জাগতিক সফরে হর্ষ –বিষাদের খেলায় আমরা ক্রিড়ণক মাত্র।

প্রতিটি খারাপ মুহূর্তের পেছনে ঘাপটি মেরে বসে থাকে সুন্দর সময়ের সমষ্টি। বৈরী সময় সবসময় সুসময়ের পেঁছনে আড়িপেতে থাকে আচমকা হামলে পড়বে বলে। আর দুঃখের পেছনে লুকিয়ে সুখ মিটমিট করে হাসে, যেমন ঘন কালো মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকে আলোকিত সূর্য তার দীপ্তি ছড়িয়ে দেবে বলে।

সুখ দুঃখের খুনসুটিতে পালাবদলের পরিক্রমা এ তো জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রয়োজন অসীম ধৈর্য্য আর প্রগাঢ় মনোবল। সুখ দুঃখের একচ্ছত্র আধিপত্য মানব জীবনে অবাস্তব! বিপদাপদ দুঃখ কষ্ট আসবেই। যখন কোন মানুষের উপর বিপর্যয় আসে সেটা তার জন্য একটি পরীক্ষা। যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে তাদের জন্য হয়েছে সৃষ্টিকর্তার আনুকূল্য, ইনশাআল্লাহ্‌। তাই এই স্বল্প দৈর্ঘ্যের মানব জীবনে হতাশা, ভয়কে অগ্রাহ্য করে মনোবল সুদৃঢ় রেখে চলতে হবে। বিবেকবোধকে কাজে লাগিয়ে সাহসিকতার সাথে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে। সব কষ্টের পর সুখ আসবেই, যেমন রাতের আঁধার শেষে ভোরের আলোর স্ফিতি– ভয় মানুষকে দুর্বল করে তোলে। জীবন অনিশ্চিত–মৃত্যু টা নিশ্চিত। তাই বেঁচে থাকার প্রতিটি মুহূর্তকে সৃষ্টিকর্তার নির্দেশনা মতো সুপথে পরিচালিত করি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাইক্রোপ্লাস্টিক : একটি নীরব ঘাতক, যার ভয়াবহতা প্রতিটি ঘরে ঘরে
পরবর্তী নিবন্ধদেশ হতে দেশান্তরে