চলতি বছরে জার্মানিতে তীব্র দাবদাহের কারণে অন্তত ৫ হাজার ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটেছে জুনের শেষ দিকে, যখন সাপ্তাহিক গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক ওপরে উঠে যায়। খবর বাংলানিউজের।
মৃতদের মধ্যে ৪ হাজার ২৭০ জনের বয়স ছিল ৭৫ বছর বা তার বেশি।
উচ্চ বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় মৃতদের মধ্যেও নারীর সংখ্যাই বেশি। জার্মানির এই তথ্য ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস ছিল পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ জুন। এ সময় অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসে ২০ থেকে ২৮ জুনের তাপপ্রবাহে অতিরিক্ত ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রবার্ট কচ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যু হয়েছিল ২০১৮ ও ২০১৯ সালে। ওই দুই বছরে যথাক্রমে ৮ হাজার ৪০০ এবং ৬ হাজার ৯০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। জুনের ২৭ ও ২৮ তারিখের তাপপ্রবাহের সময় পশ্চিম জার্মানির কোলন শহরেই ১২০ জনের মৃত্যু হয়, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। এ তথ্য দেশটির গ্রিন পার্টির নেতা ক্যাথারিনা ড্রোয়েগে পার্লামেন্টে তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও এবং জরুরি সেবাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করলেও চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এখন পর্যন্ত তাপপ্রবাহ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। একই সঙ্গে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে জলবায়ু সুরক্ষা আইন দুর্বল করার অভিযোগও তোলেন। সূত্র: রয়টার্স












