চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর চরম ভোগান্তিতে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। এই সমস্যা সমাধানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে এই দুর্যোগ থেকে বের করে আনতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের পয়েন্ট অব অর্ডারে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। খবর বাংলানিউজের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম শহরের একটি বড় অংশ এখন তলিয়ে গেছে, মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যে প্রশাসক আছেন, তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি এর মধ্যেই সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখন তো এটি অনেক বড় একটি জলাবদ্ধতা হয়ে গেছে, স্বাভাবিকভাবেই এটি নিরসনে একটু সময় লাগবে। চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আবেগপূর্ণ কণ্ঠে বলেন, এই কষ্টের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সব নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যাটা থেকে মানুষকে বের করে আনা যায়।
শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকার জলাবদ্ধতা ও সারাদেশে এই সমস্যার বিস্তৃতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এটি আমাদের অনেক দিনের সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে একজন রাজনীতিবিদ বিশেষজ্ঞ ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি সারাদেশে খাল খননের মাধ্যমে পানির আধার তৈরি এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা দূর করেছিলেন। আমাদের সেই খাল খনন কর্মসূচিতেই ফিরে যেতে হবে এবং সরকার ইতিমধ্যে তা শুরু করেছে।
জলাবদ্ধতার পেছনে জনসচেতনতার অভাবকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ড্রেন ও খালগুলোতে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিনসহ নানা বর্জ্য ফেলায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকার পরিষ্কার করার কয়েকদিনের মধ্যেই আবার ময়লা ফেলে ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে সব সংসদ সদস্যের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, আসুন আমরা জনসচেতনতা বৃদ্ধি করি। প্লাস্টিক বা পলিথিন কীভাবে ডিসপোজ করতে হয়, তা জনগণকে শেখাতে হবে। এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সরকার শহর ও গ্রামাঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এবং জনগণের সহযোগিতা পেলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।














