জনগণ পাশে থাকলে দেশ পুনর্গঠনে সরকার কোনো বাধাই মানবে না

বরিশালে প্রধানমন্ত্রী

| মঙ্গলবার , ১৪ জুলাই, ২০২৬ at ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে এবং জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে, বিএনপি কোনো বাধাই মানবে না। তিনি বলেন, আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশটাকে একদিন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।

গতকাল সোমবার সকালে গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নারীদের ডেকে জানতে চান, আপনি ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন? এই কার্ড নিয়ে কী কী উপকার পেয়েছেন?

এ সময় পারুল আখতার নামে এক নারী মঞ্চে গিয়ে বলেন, এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের অভাব দূর হয়েছে। আমি আশা করি আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের এ রকম সহযোগিতা করে যাবেন। বিপদেআপদে সব সময় আমাদের পাশে থাকবেন। খবর বাসসের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে ৬০০এর মতো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। আমি জানি, আরো অনেক পরিবার আছে, যারা এখনো কার্ড পায়নি। তবে আগামীতে তারাও পাবে। সারা দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে সকল পরিবারের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব। তারেক রহমান বলেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দেশের প্রত্যেক মা ও প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সকলের সাহায্য, সমর্থন ও সহযোগিতা বর্তমান সরকারের প্রয়োজন। বিএনপি সরকারের পাশে থাকতে দেশের নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে সবাই যাতে একটু ভালো থাকতে পারি, সবাই যাতে একটু ভালোভাবে চলতে পারি সেটিই হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনীতি এবং আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

আসুন মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি : দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কদিন আগে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি। গতকাল বরিশালের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণের প্রতি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী একটি নারকেল গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষা সরকারের একার দায়িত্ব নয়, সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকে চেষ্টা করব আমাদের আশেপাশের এলাকা, আমাদের অফিস আদালতের আশেপাশের এলাকা, আমাদের স্কুলকলেজের আশেপাশের এলাকা, আমাদের হাসপাতালের আশেপাশের এলাকাগুলো প্রত্যেকে আমরা চেষ্টা করব সেখানের পরিবেশটা যাতে নষ্ট না হয়, পরিবেশটা যাতে সুন্দর থাকে, ভালো থাকে।

ত্রিশ গোডাউনে সাগরদী খালের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাগরদী খালটি এই এলাকার জন্য নিশ্চয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা খাল। এই খালটার যত্ন করাও কিন্তু শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব না। এই খালটা যত্ন করা খালের দুই পাশে যে সকল মানুষ আছেন, তাদের সকলকে এই খালটার যত্ন করতে হবে।

সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে তাদের প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন। তিনি শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টিড্রোন মাল্টিব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাতারাতি বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়, আইএমএফও একমত : অর্থমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬