সিলেটের চা দোকানের আড্ডায় বসে বন্ধুদের দিয়ে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার (এইচএসসি) উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সেখান থেকে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ১ বস্তা খাতা জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি চা দোকান থেকে উত্তরপত্রগুলি জব্দ করা হয় বলে জানান শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন। খাতাগুলির পরীক্ষক সিলেটের মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি শাবিপ্রবি বাংলা বিভাগের ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মেট্রো সিটি উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ মাজহারুল হক। খবর বিডিনিউজের।
অধ্যক্ষ মাজহারুল হক বলেন, ‘ঘটনা জানার পর (রোববার) সকালে গভর্নিং বডির জরুরি সভা করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকেও জানানো হয়েছে এবং তাকে অব্যাহতির চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক ইকবাল হোসেন সোহান কলেজটির পূর্ণকালীন প্রভাষক ছিলেন। তিনি সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চা দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন প্রভাষক ইকবাল হোসেন। এ সময় তার দুই বন্ধুকেও খাতা মূল্যায়ন করতে দেখা যায়। খাতাগুলি একটি চালের বস্তায় রাখা ছিল। খবর পেয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে খাতাগুলি জব্দ করেন এবং ওই শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় থানায় যান।
সিলেট জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়াম্যান থানায় আসছেন। শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় একটা জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করছেন। পরে আমরা ওই শিক্ষককে তাদের (শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা) হেফাজতে দিয়ে দিয়েছি।’
এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে ইকবাল হোসেন সোহান বলেন, ‘সেখানে কোনো খাতা মূল্যায়ন করা হয়নি। সেগুলো আগেই দেখা হয়েছে। মূল্যায়ন করা খাতাগুলি কুরিয়ার করতে নিয়ে যাবার পথে সেখানে বসে গুছিয়ে নিচ্ছিলাম।’ত বে নাম না প্রকাশের শর্তে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, শুক্রবার রাতেও সাড়ে ১০টার দিকে একই দোকানে বসে প্রভাষক ইকবালসহ চারজন উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছিলেন। এই বিষয়ে বিডিনিউজের হাতে আসা এক ভিডিওতেও তাই দেখা গেছে।
সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ওই পরীক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষা বোর্ড তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।’












