চট্টগ্রামের পাহাড় ও টিলা সংরক্ষণে নতুন উপ-কমিটি করাসহ এক গুচ্ছ সিদ্ধান্ত

পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ৩২তম সভা

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ১৪ জুলাই, ২০২৬ at ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের পাহাড় ও টিলা সংরক্ষণে নতুন একটি উপকমিটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। এ কমিটি পাহাড় টিলার অতীত ও বর্তমানের চিত্রসহ কোনটি পাহাড় আর কোনটি টিলাসে বিষয়ে আগামী সভাতে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করবেন। কমিটিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর পরিকল্পনা বিভাগের একজন করে অধ্যাপককে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিও এতে যুক্ত হবেন।

গতকাল নগরীর সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ৩২ তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামীতে শীতের সময়ই যাতে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার আয়োজন করা হয়সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বলা হয়, শীতের সময় যদি সভা করা হয় তাহলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে রাখা যাবে। সে ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ঝুকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের স্থানান্তর করা সহজতর হবে। সরকারি পাহাড়গুলোতে বিদ্যুতের লাইন গেল কিভাবেসে বিষয়েও প্রতিবারের ন্যায় আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার পাশাপাশি অবশ্যই লাইনগুলো অপসারণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

বিভাগীয় কমিশনার ও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের নতুন একটি তালিকা তৈরি করে দাখিল করার জন্য বন বিভাগ, গণপূর্ত ও রেলওয়েসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থ্যাগুলোকে চিঠি প্রদান করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়া এবং তাদেরকে পুনর্বাসন করা সংক্রান্ত বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। সভায় নগরীর বায়েজিদের শেরশাহ এলাকার নাগরিক কোঅপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়।

এ সোসাইটির ভবন নির্মাণসহ নানা বিষয়ে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষ (সিডিএ)। সেখানে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়। সেসব সুপারিশ বাস্তবায়নের লক্ষে একটি টাস্কফোর্স কমিটি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে সভায়। পাহাড় রক্ষায় পরিকল্পিত বনায়ন করার ওপর জোর দেওয়া হয় সভায়।

বলা হয়, টাইগারপাসের পাহাড়ের মডেলে বনায়ন করলে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো রক্ষা পাবে। সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ের দখলদার নিজের নামে বিদ্যুতের বিল বানিয়েছেন। সে নিজে বসবাসকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুতের বিল তুলছে। এটাতো রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করা। বিদ্যুৎ ও ওয়াসার এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিযান পরিচালনা করতে হবে। বক্তব্যে তিন মাস পরপর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহ্বানের কথা জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, চট্টগ্রামে কি পরিমাণ পাহাড় রয়েছে কিংবা আগে কত ছিল এবং টিলা শ্রেণীর পরিমাণ কেমনসেসব বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদানের জন্য একটি কমিটি করা হবে। পাশাপাশি পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দার তালিকা হালনাগাদের জন্য পাহাড়ের মালিকদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কমিটির সদস্যসচিব অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, চলমান দুর্যোগে আমরা আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছি। পাহাড়ের বাসিন্দাদের জন্য সেখানে খাবারসহ থাকার ব্যবস্থা করেছি। এখনো কিছু বাসিন্দা আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের টিম প্রস্তুত থাকবে।

চট্টগ্রামের উপমহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) কার্যালয়ের পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা সভায় বলেছেন, সভাটি এপ্রিল কিংবা বর্ষা শুরু হওয়ার আগে আগে করলে প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হয়। এবার ইতোমধ্যে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ধসও হয়েছে। সামনের সময় থেকে এই বিষয়টা মাথায় রেখে শীতের সময় সভা করে আগে থেকে প্রস্তুতি নিলে ভালো হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিসি ট্রাফিক লিয়াকত আলী খান, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা, রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা নূর এ জান্নাত রুমি, সিটি করপোরেশনের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট শোয়েব উদ্দিন খান, সিডিএর নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ইশা ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা। নগরীর নাগিন পাহাড় বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসরকারি হলো থানচির আলোচিত তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
পরবর্তী নিবন্ধমডেল মসজিদের ব্যয় বৃদ্ধির তদন্ত হবে : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী