চট্টগ্রামের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার দরকার

| মঙ্গলবার , ৭ জুলাই, ২০২৬ at ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভৌগোলিক ও স্ট্রাটেজিক (কৌশলগত) অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম লজিস্টিক্যাল হাব। বাজেটে সেটার (লজিস্টিক্যাল হাব) প্রতিফলন ঘটেছে। অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

২০২৬২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর প্রথমবার গত শনিবার নিজ শহর চট্টগ্রাম আসেন অর্থমন্ত্রী। সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে আমাদের পরিকল্পনায় অনেক কিছু নিয়ে আসছি। এখানে আমরা ৬০০ একর জমি নিয়ে নদীর ওপারে ফ্রি জোনের (মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল) একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চিটাগাংয়ে অনেকগুলো পোর্ট আমরা একসাথে করতে যাচ্ছি। খসরু বলেন, এখানে চাইনিজ ইকোনমিক জোন হতে যাচ্ছে এবং ঢাকাচট্টগ্রাম লিংকের জন্য লাকসামের যে বিষয়টা আছে (কর্ডলাইন), ট্রেনে দুই ঘণ্টার ট্রাভেল টাইম যাতে কমে আসে, সেটাও বলা আছে। সবগুলো হলে চট্টগ্রাম থেকে যে করিডর বাংলাদেশের সাথে, সেটা হবে। লজিস্টিক্যাল হাব হবে। বন্দরগুলো অনেক বেশি পরিমাণে কাজ করতে পারবে। ওদিকে মাতারবাড়িতে একটা বড় ধরনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এই অঞ্চলে যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আছে, যে লজিস্টিক্যাল সম্ভাবনা আছে, সবগুলোকে মাথায় রেখে বাজেটে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটা দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার। কয়েক বছর সময় লাগবে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নই দেশের অর্থনীতির অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ কারণে ঢাকাচট্টগ্রাম রেলওয়ে কর্ডলাইন, এক্সপ্রেসওয়ে, বে টার্মিনাল, মাতারবাড়ী ও আনোয়ারায় ফ্রি ট্রেড জোন, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের সহায়ক অবকাঠামো, সিটি আউটার রিং রোড, মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স, রামু ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার এবং আনোয়ারাবাঁশখালীচকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ী সমাজের মতামত সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী ও টেকসই করা হবে।

আসলে চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। সুতরাং চট্টগ্রামবাসী হিসেবে চট্টগ্রামের উন্নয়নের লক্ষ্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, চট্টগ্রামকে অবহেলিত রেখে বাংলাদেশের উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। চট্টগ্রামকে দেশের দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা করণীয় তাই করা দরকার। সঠিকভাবে অবকাঠামো উন্নয়ন হলে চট্টগ্রাম হবে সত্যিকার অর্থে আধুনিক নগরী। কেননা দেশের বৃহত্তম বন্দর চট্টগ্রামে। বাংলাদেশের অর্থনীতি পরিচালিত হয় এই বন্দর দিয়ে। এই বন্দরকে বাঁচাতে হলে চট্টগ্রামে উন্নয়নের কোনও বিকল্প নেই। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে চট্টগ্রাম দ্রুত এগিয়ে যাবে। দেশেরও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তাঁরা বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী চট্টগ্রাম হলেও উন্নয়ন ভাবনায় এখানকার মানুষের চিন্তার প্রতিফলন কম। চট্টগ্রামে অপরিকল্পিত উন্নয়ন এখানকার প্রাণপ্রকৃতি ধ্বংস করলেও মানুষের উপকারে আসেনি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নির্ভর করছে সুষ্ঠু, টেকসই ও গতিশীল নগর উন্নয়নের ওপর। জলজট অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে চট্টগ্রাম বাসযোগ্যতা হারানোর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। যানজট, বায়ু, পানি, শব্দ, নদী ও খাল দখল ও দূষণ প্রকৃতিকে মানুষের টিকে থাকার জন্য হুমকিতে পরিণত করছে। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের সকল সমস্যাকে গভীরভাবে অনুসন্ধানে নতুন পরিকল্পনায় সাজানো দরকার। মনে রাখতে হবে, উন্নয়ন হতে হবে চট্টগ্রামের সকলের জন্য, সুষম এবং টেকসই। আমাদের এখানে এতদিন যেসব উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে, যেসব উন্নয়ন হয়েছে সেগুলো টেকসই না হওয়ায় বন, পরিবেশ, অর্থ, শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়েছে। উন্নয়নের এই ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরীর বেনিফিশিয়ারি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আয় ও তহবিলের একটি অংশ বরাদ্দ নিশ্চিত হলে এই নগরীকে আন্তর্জাতিক মানের উন্নীত করার সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। সর্বোপরি নাগরিক সুযোগসুবিধা এবং বিভিন্ন সেবাখাতগুলোর কার্যক্রম যথাযথভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে উঠবে। তাঁরা বলেন, চট্টগ্রামে সবকিছু থাকলেও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে উন্নয়ন ভেস্তে গেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে