টানা অতিভারী বৃষ্টিপাতে বান্দরবানে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় লামা–আলীকদম সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের কারণে রুমা–বগালেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় থানচি উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুমে ভ্রমণে পর্যটকদের সাময়িকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।। বৈরী পরিস্থিতিতে রেমাক্রী–তীন্দু এলাকায় শতাধিক ভ্রমণকারী পর্যটক আটকা পড়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সবগুলো পর্যটন স্পট বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। গতকাল রাত নয়টায় বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিতে লামা–আলীকদম সড়কের বিভিন্ন স্থানে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে রুমা উপজেলার পেঁপেবাগান এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনায় রুমা–বগালেক সড়কেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বান্দরবান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতিভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে পড়ে।
কুহালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মংপু মারমা ও টংকাবতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মায়ং ম্রো প্রদীপ জানান, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে এবং নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিজা আক্তার বিথী বলেন, রোববার থেকে চলমান ভারী বৃষ্টির কারণে রুমা–বগালেক সড়কের মধ্যবর্তী অংশে পাহাড়ধস হয়েছে। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, আলীকদম–লামা সড়কের রেপারপাড়ি এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে সড়কের ওপর কোমর সমান পানি রয়েছে। কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী ও পর্যটক আটকা পড়েছেন। নৌকার মাধ্যমে তাদের পারাপারের চেষ্টা চলছে। তবে সাধারণ যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, সড়কের পাশ দিয়ে মাতামুহুরী নদী প্রবাহিত হওয়ায় নদীর পানি বাড়লে সড়ক প্লাবিত হয়। এটি ড্রেনেজ সমস্যাজনিত নয়, বৃষ্টি কমলে সড়কের পানিও নেমে যাবে।
থানচি উপজেলা ট্যাুরিষ্ট গাইড সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্লাইমেন ত্রিপুরা বলেন, থানচিতে নাফাকুমে ৬৯ জন এবং জিন্না পাড়ায় ৩জন গাইডসহ ২১ জন পর্যটক আটকে পড়ার তথ্য রয়েছে। এছাড়াও থানচিতে বিভিন্ন স্থানে আরো পর্যটক আটকা থাকতে পারে।
তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন বলেন, তিন্দু বড় পাথর এলাকায় পর্যটকদের একটি বোট নদীর স্রোতে ডুবে গেছে। তখন বোটে পর্যটক ছিলেন না বোট চালক আগে থেকেই পর্যটকদের নৌকা থেকে নামিয়ে দেন। তাই কোন প্রাণহানি ঘটেনি।












