আগামী ৩১ আগস্ট চট্টগ্রামসহ সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে নজরুল বর্ষের কার্যক্রম। সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে এদিন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সংগীত, কবিতা, নাটক ও নৃত্য এই চারটি বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ময়মনসিংহের ত্রিশালে কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চলতি বছরের (২০২৬) ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেন।
নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গতকাল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতি চর্চায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সুস্থ সমাজ গঠনে কাজ করছে সরকার। সংস্কৃতি শুধু গান–বাজনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের চিন্তা, সাহিত্য, ঐতিহ্য ও জীবনযাপনের রূপই সংস্কৃতি।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ড. সুকোমল বড়ুয়া। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিনের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী ও সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কয়েকজন বিজয়ী নির্বাচন করা নজরুল বর্ষের উদ্দেশ্যে নয়। যারা বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে, তাদেরকেও সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে হবে। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচিত হয়ে এসে উপজেলা, জেলা, বিভাগ থেকে বাদ যাবে সে সকল অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরবর্তীতে শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে সারা দেশে সাংস্কৃতিক চর্চার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হবে। নজরুল বর্ষের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক শিক্ষা, মাদ্রাসা, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সম্প্রসারিত করা হবে। সরকারি–বেসরকারি কলেজের পাশাপাশি মেডিকেল, কারিগরি, ভেটেরিনারি ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এ কর্মসূচির আওতায় আসবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। কোনো শিক্ষার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে সরাসরি প্রতিযোগিতায় পাঠানো নয়; বরং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিযোগী নির্বাচন করতে হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের যথাযথ মনিটরিং করার আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মসূচির সার্বিক সমন্বয় করবেন বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা স্থানীয় বাস্তবতার আলোকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যয় সরকারিভাবে সহায়তা করা হবে। তবে বিদ্যালয় পর্যায়ের ছোট পরিসরের আয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। নজরুল বর্ষের মূল লক্ষ্য হলো তাঁর সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে একটি সুস্থ, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, সংস্কৃতি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ ঘটায়–এই চেতনাকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতি চর্চায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সুস্থ সমাজ গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও প্রবিধানগুলো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে সংগীত, বাদ্যযন্ত্র, নাটক, যাত্রাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে দক্ষ প্রশিক্ষক ও শিল্পী তৈরির জন্য দেশব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দেশের হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ও সংগীতচর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রশিক্ষিত শিল্পী তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক জেলা থেকে প্রতিভাবান শিল্পীদের নির্বাচন করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ভিত্তি তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বাহিনীর নিজস্ব ব্যান্ড ও অর্কেস্ট্রাকে আরো সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।












