চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। গতকাল বিকেলে নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের এ নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে সংগঠনটির প্যানেল লিডার এস.এম নুরুল হক চেম্বারের সদস্যদেরও সর্বাত্মকভাবে ভোট প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে এস.এম নুরুল হক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর আমাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম চেম্বারের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে অন্তবর্তী সরকার চট্টগ্রাম চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। আমাদের দাবির কারণে যাচাই বাছাই করে চট্টগ্রাম চেম্বারের অর্ডিনারি ও এসোসিয়েট গ্রুপের ভুয়া সদস্য এবং তদন্ত রিপোর্টের মাধ্যমে অকার্যকর টাউন এসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপকে বাদ দিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল জালিয়াতি করে এসব সংগঠনের মাধ্যমে ছয়জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার ব্যবস্থা করে। নির্বাচনে এসব সংগঠনের অংশগ্রহণ বিষয়ে আপত্তি থাকায় আমি এফবিসিসিআই সালিশী ট্রাইব্যুনালে ১১/২০২৫ নম্বর আবেদন করি। এই আবেদনের শুনানি চলাকালে চেম্বারের দুইজন সদস্য নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টে মামলা করায় এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনাল আমার আবেদনের শুনানি কার্যক্রম স্থগিত রাখে। পরবর্তীতে হাইকোর্টের মামলার রায়ের পর বাদীগণ আপিল বিভাগে আপিল করলে মাননীয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের শুনানি শেষে এফবিসিসিআই সালিশী ট্রাইব্যুনাল পূর্বের নির্বাচনী তফসিল বাতিল করে নতুন তফসিল ঘোষণা করে বাণিজ্য সংগঠন আইন ও বিধিমালা, কোম্পানি আইন এবং আয়কর আইনসহ সকল বিধান মেনে চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন আয়োজন করার রায় ঘোষণা করেন।
এস.এম নুরুল হক আরো বলেন, আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন, গত ১৮ মে চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন বোর্ড হঠাৎ তড়িঘড়ি করে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের প্রাণকেন্দ্র শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের স্থগিত হওয়া নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আগামীকাল (আজ) ২৩ মে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। পবিত্র ঈদুল আযহার ঠিক আগমূহুর্তে যখন ব্যবসায়ীরা একদিকে ব্যবসায়িক মৌসুম হওয়ার কারণে দিন রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন, অন্যদিকে কোরবানির পশু ক্রয়ের জন্য সবার মধ্যে আছে বাড়তি ব্যস্ততা। ইতিমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী পবিত্র হজ্ব পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তাই এই সংক্ষিপ্ত ঘোষণায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে অধিকাংশ ব্যবসায়ী নির্বাচনে তাদের মূল্যবান ভোট দিতে পারবেন না। এ ছাড়াও ইতিমধ্যে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশে বাণিজ্য সংগঠন সমূহের অভিভাবক এফবিসিসিআই আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল ঘোষিত তফশিলকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বাণিজ্য সংগঠন বিধিবালা ২০২৫ এর আলোকে নতুনভাবে তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দিয়েছে। কাজেই ২৩ মে আগের তফশিলে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা হবে আদালতের রায়ের প্রতি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচন বোর্ডের এই ধরণের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ ‘বেআইনি, ‘পক্ষপাতমূলক’ ও ‘আরোপিত’ বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। এভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ঈদের ব্যস্ততার মধ্যে মাত্র কয়েকদিন সময় দিয়ে যেনতেন ভাবে একটি নির্বাচন করা হলে তা চেম্বারের ইতিহাসে একটি ‘কলঙ্কজনক’ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হবে।
এস.এম নুরুল হক বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার পাশ কাটিয়ে একটি প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে স্বার্থান্বেষী মহলের চেম্বার দখলের মহড়া অনুষ্ঠিত হবে, যা চেম্বারের সদস্যরা কিছুতেই মেনে নেবেন না। এই বাস্তবতায় আমরা গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করে এই নির্বাচন আয়োজনের উপর স্থগিতাদেশ পাই। অপর পক্ষ চেম্বার জজ আদালতে গিয়ে ওই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন। চেম্বার জজ একই সাথে আগামী ৮ জুন শুনানির দিন ধার্য করেছেন। অথচ এতকিছুর পরও জোরপূর্বক আগামীকাল (আজ) চেম্বারের নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। সঙ্গত কারণেই আমরা সম্মিলিত ব্যাবসায়ী পরিষদ আপনাদের মাধ্যমে ব্যবসায়ী সমাজসহ দেশবাসীকে জানাতে চাই–আমরা এই প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছি। চট্টগ্রাম চেম্বারের সদস্যদেরকে আমরা এই ভোট সর্বাত্মকভাবে বর্জন করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থী মোহাম্মদ আইয়ুব, এস.এম কামাল উদ্দিন, কাজী ইমরান এফ রহমান, মোস্তাক আহমেদ, নুরুল আবছার, মো. আজিজুল হক, মো. রাশেদ আলী, মোহাম্মদ মুসা এবং মো. আরিফ হোসেন প্রমুখ।












