দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়কপথ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক। পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সাথে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের যোগাযোগের প্রধান এই মহাসড়কে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। তবে এই সড়কে বাইক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও মিনিট্রাকের মতো ভারী যানবাহনের সাথে বাইকের সংঘর্ষ প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে কিংবা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হওয়া অনেক তরুণ আর নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারছেন না।
জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট সকালে বান্দরবান সরকারি কলেজে ক্লাস করতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা শিশুতল এলাকায় ঈগল বাসের সাথে সংঘর্ষে ইমতিয়াজ উদ্দিন হৃদয় নামে এক তরুণ গুরুতর আহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় তিনি মাথায় গুরতর আঘাত পেয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার মহাসড়কের পদুয়া ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘীস্থ নয়াপাড়া এলাকায় মিনিট্রাকের চাপায় মাহি পাটওয়ারী ও ফিরোজ আহমেদ তাওহীদ নামে দুই তরুণ বাইক আরোহী নিহত হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও বাইক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কে বাইক চালানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল গতি নিয়ন্ত্রণ। ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এড়িয়ে চলা, ভারী যানবাহন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং কখনোই বিপরীত লেনে না যাওয়ার বিকল্প নেই। দীর্ঘ যাত্রার আগে বাইকের ব্রেক, টায়ার, বাতি ও অন্যান্য যান্ত্রিক বিষয় পরীক্ষা করা জরুরি। চালক ও আরোহী উভয়ের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শুধু চালকের সচেতনতাই যথেষ্ট নয়। মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ মোড় চিহ্নিতকরণ, বাজার এলাকায় কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারিও জরুরি। একটু অসতর্কতা, কয়েক সেকেন্ডের ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা সাময়িক গতির নেশা কেড়ে নিতে পারে একটি মূল্যবান জীবন। তাই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চেয়ে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ায় হোক প্রতিটি বাইক আরোহীর প্রধান লক্ষ্য।
নিরাপদ সড়ক চাই লোহাগাড়া উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি মোজাহিদ হোসাইন সাগর জানান, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কটি খুবই সরু। অন্যদিকে লবণ পরিবহন করায় প্রায় সময় এই সড়কটি পিচ্ছিল থাকে। এজন্য বাইক আরোহীদের জন্য এই সড়কটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ছোট দুই চাকার যানকে একই সড়কে দ্রুতগতির বাস ও ভারী ট্রাকের সাথে চলাচল করতে হয়। ফলে সামান্য অসতর্কতা কিংবা ভুল সিদ্ধান্তও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অতিরিক্ত গতি, বিপরীত লেনে চলাচল ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। মহাসড়কে বিভিন্ন বাজার, জনবহুল এলাকা, সংযোগ সড়ক ও মোড়ও বাইক আরোহীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব এলাকায় হঠাৎ পথচারীর রাস্তা পারাপার, যানবাহনের বাঁক নেওয়া ও ধীরগতির যানবাহনের কারণে দ্রুতগতিতে চলা বাইক নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থাকে। রাত ও ভোরের সময় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। কম আলো, ক্লান্তি, ঘুম ঘুম ভাব ও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানোর কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। একটি দুর্ঘটনায় শুধু একজন মানুষের জীবন থেমে যায় না। থমকে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভেঙে পড়ে বাবা–মায়ের আশা, স্ত্রী হারান স্বামী, সন্তান হারায় অভিভাবক। তাই সবাই সচেতন হই। ট্রাফিক আইন মেনে চলি ও নিরাপদ গতিতে চলাচল করি। গতির আনন্দ ক্ষণিকের, নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে আসাটাই জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।











