পর্তুগালের বিপক্ষে নাটকীয় লড়াই শেষে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়া একটি গোল নিয়ে।
বাতিল করা সেই গোল নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইওস্কো গাভার্দিওল গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে ২–২ সমতায় ফেরানোর উল্লাসে ভাসান। কিন্তু ভিএআরের সহায়তায় গোলটি বাতিল করে দেন নরওয়ের রেফারি এস্পেন এসকাস। রেফারির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গাভার্দিওলের কাছে বল পৌঁছানোর আগে মারিও পাসালিচের উদ্দেশে আসা ক্রসে সতীর্থ ইগর মাতানোভিচের হালকা স্পর্শ ছিল। সেই স্পর্শের পরই পাসালিচ অফসাইড অবস্থানে চলে যান। ফলে পুরো আক্রমণটি অফসাইড হিসেবে গণ্য হয় এবং গোল বাতিল করা হয়।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠেই প্রতিবাদ জানান ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। তাদের দাবি ছিল, মাতানোভিচ বল স্পর্শই করেননি। বিতর্কের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে ফিফা জানায়, ম্যাচে ব্যবহৃত অ্যাডিডাস ট্রিওন্ডা বলের ভেতরে থাকা কানেক্টেড বল প্রযুক্তি নিশ্চিত করেছে যে গোলের আগে মাতানোভিচ বল স্পর্শ করেছিলেন।
বলের আইএমইউ সেন্সর অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্পর্শও শনাক্ত করতে সক্ষম। সেই প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতেই ভিএআর ও রেফারি অফসাইডের সিদ্ধান্ত নেন।
ফিফা আরও জানায়, সমপ্রচারের সময় দর্শকদের দেখানো ‘হার্টবিট’ গ্রাফিক্স মূলত এই সেন্সরের তথ্যই উপস্থাপন করে, যা ম্যাচ কর্মকর্তাদের দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার পেতার সুচিচ। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, রেফারি নিজে স্পর্শটি দেখেননি, কেবল সেন্সরের তথ্যের ওপর নির্ভর করেছেন। তার দাবি, মাঠে তিনি কোনো স্পর্শ দেখতে পাননি এবং এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচও ভিএআর প্রযুক্তির সমালোচনা করে বলেন, প্রযুক্তি ফুটবলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করলেও এটি খেলাটির স্বাভাবিক আবেগ ও আনন্দ অনেকটাই কেড়ে নিচ্ছে।












