ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ক্রিকেটাররা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেছেন তারা। প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবও। গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে বিসিবি। অপরদিকে ঘটনা নিয়ে বিসিবি সভাপতি ও বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। ওই আলোচনার সময় ফোন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদও। কোয়াব প্রধান জানালেন, এই ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। খবর বিডিনিউজের।
ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর তোলপাড় পড়ে যায় ক্রিকেট আঙিনায়। সামাজিক মাধ্যমেও তুমুল আলোচনা–সমালোচনা চলছে।
বিসিবি গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলে, ‘একজন জাতীয় ক্রীড়াবিদের প্রতি এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই ঘটনার একটি পুক্সখানুপুক্সখ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রত্যাশা করছে বিসিবি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছে।’
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল পরে সামাজিক মাধ্যমেও জানান বোর্ডের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে নাঈমকে। তিনি বলেন, ‘নাঈম হাসানের সঙ্গে যা হয়েছে, কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। রাতে নাঈম আমাকে ফোন করার পর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যা যা করা দরকার, করার চেষ্টা করেছি আমি ও অন্য বোর্ড পরিচালকরা। সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় আমরা কথা বলছি, নাঈম ও তার পরিবারের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রাখছি।’
এদিকে একসংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)।
বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো, নাঈম। তুমি অসাধারণ একজন মানুষ।’ এই ঘটনার তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন সিনিয়র এই ক্রিকেটার।
নাঈমের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে, তা আমাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। নাঈম, আমরা তোমার পাশে আছি।’
ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইরকম দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলামসহ আরও অনেক ক্রিকেটার।
এদিকে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সিজেকেএস ক্লাব সমিতি ও চট্টগ্রামের ক্রীড়া সংগঠকবৃন্দ। সিজেকেএস ক্লাব সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো ব্যক্তির প্রতি অযৌক্তিক বলপ্রয়োগ, হয়রানি বা শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এমন ঘটনা শুধু ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের জন্যই নয়, বরং সমগ্র সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। সিজেকেএস ক্লাব সমিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ঘটনার অবিলম্বে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।











