শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই চলবে না, নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতার সমন্বয়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি গতকাল সোমবার কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৬ তলা ভিতবিশিষ্ট ২ তলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ডা. শাহাদাত বলেন, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মিত হলে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকট অনেকাংশে দূর হবে। শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নেও সিটি কর্পোরেশন গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই সময়ের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থেকে শিক্ষকদের পাঠদান মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করতে হবে। শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দিয়ে পাঠ গ্রহণ করতে পারলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মেধার বিকাশ আরও সমৃদ্ধ হবে। নগর পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চসিক প্রশাসক বলেন, যেখানে–সেখানে প্লাস্টিক, পলিথিন ও ডাবের খোসা ফেলার কারণে ড্রেনের পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব বর্জ্যে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন ঘটছে, যা ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই পরিচ্ছন্নতা শুধু সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের সামাজিক দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের নিজেদের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শিশু–কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলার মাঠের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১১টি খেলার মাঠ প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাট্টলী এলাকার দুটি খেলার মাঠও পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ রয়েছে। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে নির্মিতব্য ৬ তলা ভিতবিশিষ্ট এ একাডেমিক ভবনের প্রথম পর্যায়ে ২ তলা নির্মাণ করা হবে। ভবনটি নির্মিত হলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।












