কলেজছাত্রকে আটকে রেখে চাঁদা আদায়, গ্রেপ্তার ৫

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ

নগরীর চকবাজার থানাধীন কে.বি. আমান আলী রোডের সালেহ আহম্মেদ বাই লেন সংলগ্ন মাঠে নুর মোহাম্মদ সিফাত নামের এক ছাত্রকে আটকে রেখে চাঁদা আদায় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় পাঁচ চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সামির আহম্মেদ (২২), মো. আকরাম হোসেন জয় (২৩), কাজী মো. রাকিব হোসাইন (২৩), মো. আহনাফুল আলম প্রকাশ আদিব (২১) ও মো. হাসনাত (২২)

পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নুর মোহাম্মদ সিফাতকে গ্রেপ্তারকৃত আসামি সামির আহম্মেদ চকবাজার থানার কে.বি. আমান আলী রোডস্থ সালেহ আহম্মেদ বাই লেইন সংলগ্ন মাঠে নিয়ে যায়। এ সময় সেখানে গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরাও ছিল। একপর্যায়ে আসামিরা চাকু ও পেশিশক্তির ভয় দেখিয়ে নুর মোহাম্মদ সিফাতের কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগে থাকা ২ হাজার টাকা জোর পূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এ সময় আসামিরা তার প্যান্টের পকেটে একটি সিগারেটের প্যাকেট ঢুকিয়ে দিয়ে তার পকেটে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে ‘মিথ্যা’ অভিযোগ তুলে এবং ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। এরপর সিফাতের পরিবারের নিকট কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে বাদীকে হত্যা ও ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ অবস্থায় ভুগভোগী সিফাতের মা এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে সিফাতের ব্যবহৃত নগদ নম্বরে পাঠালে আসামিরা সে নম্বর থেকে বিভিন্ন নম্বরে টাকা স্থানান্তর করে নেয়। পরবর্তীতে আরও টাকার জন্য সিফাতকে পরদিন ভোর ৫ টা পর্যন্ত জোরপূর্বক আটক করে রাখে এবং মারধর করে। পরে অতিরিক্ত টাকা না পেয়ে চলে যাওয়ার সময় মামলা করলে বাদীকে ভবিষ্যতে হত্যা করার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় মামলা হলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আসামি সামির আহম্মেদকে (২২) চকবাজার থানাধীন ওমর আলী মাতব্বর রোডস্থ তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে, ভিকটিমের কাছ থেকে আদায়কৃত চাঁদার ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অপর আসামি মো. আকরাম হোসেন জয়কে (২৩) চান্দগাঁও থানাধীন মৌলভী পুকুরপাড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে, ভিকটিমের কাছ থেকে জোর করে ছিনিয়ে নেয়া ১টি ইনফিনিক্স মোবাইল ফোন, যার আনুমানিক মূল্য ১১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চাঁদার ২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আসামি কাজী মো. রাকিব হোসাইন (২৩) এবং মো. আহনাফুল আলম প্রকাশ আদিবকে (২১) তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া পলাতক আসামি আবু সুফিয়ান (১৮) ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া একটি আইফোন ১৬ প্রোম্যাক্স মোবাইল ফোন পরবর্তীতে মো. হাসনাত (২২) এর কাছে বিক্রি করে। পরে আসামি মো. হাসনাতকে (২২) চকবাজার বালি আর্কেড মার্কেটের ৪র্থ তলায় অবস্থিত আপগ্রেড নামীয় মোবাইল ফোনের দোকান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বলে জানায় পুলিশ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাইজভাণ্ডারী যুব ফোরামের আর রহমান ইংলিশ অলিম্পিয়াড
পরবর্তী নিবন্ধযুগোপযোগী কারিকুলাম বাস্তবায়নএখন সময়ের দাবি