বাংলাদেশের জন্য প্রবল প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। আর সেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচটি খেলতে ইতোমধ্যেই হয়তো মাঠে নেমে গেছে বাংলাদেশ। কারণ আজ বৃহস্পতিবার ডারউইনের মারারা ওভাল স্টেডিয়ামে দুই দেশের এই টেস্ট লড়াই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায়। এ লেখা পাঠকদের হাতে পৌঁছবার আগেই হয়তো খেলা শুরু হয়ে গেছে। তবে খেলার আগে বাংলাদেশ তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
২৩ বছর পর দীর্ঘতম ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়া সফরে ফিরেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে এর আগে মাত্র দুটি টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে, ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ এবং ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা এই মাঠে টেস্ট খেলেছে। ২২ বছর পর আবারও ডারউইনে টেস্ট ফিরেছে। কঠিন কন্ডিশনে পূর্ণশক্তির অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ।
সাধারণত সফরকারী দলগুলোর জন্য, বিশেষ করে উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য, অস্ট্রেলিয়া অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ। এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে একমাত্র ভারতই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুবার টেস্ট সিরিজ জিতেছে। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছেন, ম্যাচ কতদিন চলবে তা নিয়ে না ভেবে পুরো ম্যাচজুড়ে মানসম্পন্ন ক্রিকেট খেলাই হবে দলের লক্ষ্য।
শান্ত বলেন, খেলোয়াড় হিসেবে আমরা পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। আমরা প্রতিটি সেশন ধরে খেলতে চাই, যেটা আমরা সবসময় বলে থাকি। প্রতিটি সেশনই গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচ চার দিন, পাঁচ দিন নাকি তিন দিন চলবে, এ ধরনের আলোচনা থাকবেই। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে আমরা সবসময় দেখব কীভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। জয় মাত্র একটিতে, ২০১৭ সালে মিরপুরে স্মরণীয় ২০ রানের জয়। বাকি পাঁচ ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের দুটি টেস্টে পরাজিত হয়েছির টাইগাররা। ওই দুই ম্যাচসহ মোট তিনটি পরাজয় ছিল ইনিংস ব্যবধানে। তবে সমপ্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাফল্য থেকে আত্মবিশ্বাস নিতে পারে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা।
শান্ত বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে জয়টা অসাধারণ ছিল। ফরম্যাট ও কন্ডিশন ভিন্ন হলেও ওই জয় অবশ্যই আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। বাংলাদেশ অধিনায়ক মনে করেন, ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফর করা দলের তুলনায় বর্তমান দল অনেক বেশি শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ। এরপর অনেক কিছুই বদলে গেছে। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এই মুহূর্তে আমরা আত্মবিশ্বাসী একটি দল। আশা করি, খেলোয়াড়রা নিজেদের পারফরম্যান্স আরও উঁচুতে নিয়ে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কঠিন লড়াই করবে।
চোট কাটিয়ে উইকেটরক্ষক–ব্যাটার লিটন দাস প্রথম টেস্টে খেলতে পারেন বলেও আশা অধিনায়ক শান্তর। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স গতকালই তাদের একাদশ ঘোষণা করেন। দলে জায়গা পেয়েছেন ক্যামেরন গ্রিন ও বিউ ওয়েবস্টার। মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউডকে নিয়ে শক্তিশালী পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন কামিন্স। দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ স্পিনার ন্যাথান লিঁও।











