দেশের সিটি কর্পোরেশনের তালিকায় এবার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে পর্যটন নগরী জেলা শহর কক্সবাজার। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রায় ১৫৭ বছরের পুরোনো কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনের রূপান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে লিখিতভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়েও গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন জরুরিভিত্তিতে পাঠাতেও বলা হয়েছে দপ্তরাদেশে। এরমধ্য দিয়েই বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত তথা পর্যটন নগরী কক্সবাজার এখন সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর হওয়া একেবারে সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাচীন কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করতে সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জনসংখ্যা, আয়তন, রাজস্ব, অবকাঠামো, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং বিদ্যমান আইনগত কাঠামো মূল্যায়ন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ। মূল্যায়ন শেষে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার–১ ও ‘সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল’–এর সদস্যসচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত দপ্তরাদেশে স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন দ্রুত পাঠাতেও বলা হয়েছে আদেশে।
গত ১৩ জুন কঙবাজার সফরকালে এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঙবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই প্রশাসনিক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এর আগে গত ২ এপ্রিল কঙবাজার–৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটার পাঠান। এতে তিনি কঙবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করার দাবি জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঙবাজার সফর করলে বিষয়টি তুলে ধরা হয় তার কাছে।
ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়– আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে কঙবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা সময়োপযোগী ও যৌক্তিক পদক্ষেপ হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১৮ জুন পাঠানো আরেকটি পত্রেও কঙবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করার সম্ভাবনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক মতামতের কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কঙবাজার পৌরসভার বয়স এখন প্রায় ১৫৭ বছর। সেই থেকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা হিসেবে নাগরিক সেবা দিয়ে আসছে স্বায়ত্তশাসিত এই সেবা প্রতিষ্ঠানটি। এবার প্রাচীন এই কঙবাজার পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর হয়ে গেলে পর্যটননির্ভর এই শহরের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কঙবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রাচীনতম পৌরসভা হচ্ছে কঙবাজার। কিন্তু বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত তথা পর্যটন নগরী কঙবাজার বহুক্ষেত্রে অবহেলিত। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশি–বিদেশি পর্যটক–দর্শনার্থীদের কাছেও। নজরুল ইসলাম আরও বলেন, তবে দেরিতে হলেও এবার আশার সঞ্চার হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কঙবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায়। এতে করে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর হলে নগর পরিচালনায় আর্থিক বরাদ্দ এবং নানা ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়বে। অবারিত সুযোগ সৃষ্টি হবে সড়ক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়নে বড় পরিসরে প্রকল্প বাস্তবায়নের।
কঙবাজারের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সুনীল বড়ুয়া দৈনিক আজাদীকে বলেন, যে দেশের দখলে বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত। সেই পর্যটন নগরী কঙবাজারকে বহুবছর আগেই সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা উচিত ছিল। কিন্তু নানা কারণে সেটার বাস্তবায়ন না হলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজলের প্রস্তাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই প্রাচীন এই কঙবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করায় কঙবাজারবাসীর মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। এতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত তথা পর্যটন নগরী কঙবাজারের আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। এমনটাই আশা প্রকাশ করছি সকলেই।












