কক্ষজুড়ে উইপোকার আবাস, দেয়াল ও পিলারে ফাটল

হাবিলাসদ্বীপ পাঁচুরিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র

শফিউল আজম, পটিয়া | শনিবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশ স্বাধীনের পূর্বে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নে পাঁচুরিয়া উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির কোনো উন্নয়ন করা হয়নি। বরং স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য স্থানীয় হিতৈশী অশ্বীনি কুমার বড়ুয়ার দানকৃত ২ একর জমি স্থানীয় ভূমিদস্যুদের দখল বেদখল হয়ে গেছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দখলে রয়েছে মাত্র ৩০৪০ শতক জায়গা। গত ২৫ আগস্ট পটিয়ার এমপি এনামুল হক এনাম সরেজমিনে গিয়ে উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে পটিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সড়ক জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেদখলকৃত জায়গা উদ্ধারে দখলদারদের বিরুদ্ধে নোটিশ ইস্যুর নির্দেশ দেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নানা প্রতিকূল পরিবেশ, চলাচলের রাস্তাসহ অধিকাংশ জায়গা বেদখল, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষজুড়ে বড় বড় উইপোকার আবাসস্থল, ব্রিক পিলার ও দেয়ালজুড়ে বড় বড় ঝুঁকিপূর্ণ ফাটলসহ নানা সমস্যায় ভুগছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। এ অবস্থায় জনগণকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার বিপরীতে পাঁচুরিয়া উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিজেই এখন রুগ্ন রূপ ধারণ করেছে। ডাক্তার, রোগী ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের জন্য কোনো শৌচাগার নেই। ডাক্তার ও দায়িত্বরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য নেই কোনো বেসিন ও ওয়াশ ব্লক। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রবেশের ১২ ফিটের রাস্তাটি বর্তমানে বেদখল হয়ে ৩ ফিটে এসে ঠেকেছে। যাতে কোনো রোগীকে রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশায় করে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

জানা যায়, এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন বিসিএস করা নিয়মিত মেডিকেল অফিসার পদায়ন থাকার কথা। কিন্তু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বসার পরিবেশ না থাকায় তিনি সপ্তাহে ২ দিন দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তার অধীনে একজন সাব এসিসটেন্ট মেডিকেল অফিসার (সাকমো), একজন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়ক থাকেন। এরমধ্যে এখানে সাকমো ও মিডওয়াইফ পদ দুইটি খালি রয়েছে। এ পদগুলো পরিপূর্ণ থাকলে ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বসার ও দায়িত্ব পালনের পরিবেশ থাকলে স্থানীয় পর্যায়ের জনগণকে ভালোভাবে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া যেত বলে মনে করেন স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ডাক্তার ও কর্মচারীরা।

পাঁচুরিয়া উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র বিষয়ে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয় এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। স্বাধীনতার পূর্বে এটি প্রতিষ্ঠিত হলেও অতীতে এটার সংস্কার ও যথাযথ বরাদ্দ না পাওয়ায় এটি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের অনুপযোগী পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে যা রয়েছে তা পাকিস্তান আমলের স্থাপনা। ১৯৫৬ সালে নির্মিত হয়। তখন এটা রুরাল ডিসপেনসার বা আরডি হিসেবে পরিচিত ছিল। তখন থেকেই স্থানীয় জনগণ এখান থেকে স্বাস্থ্য সেবা পেত। পরবর্তীতে এটাকে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন, পটিয়া একটি ভাইটাল উপজেলা। হাবিলাসদ্বীপের মত একটি জায়গায় উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, তারপরও পরিত্যক্ত ভবন। পটিয়ায় দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিদর্শনে এসে এ অবস্থা দেখে তিনি সিভিল সার্জনকে অবহিত করা এবং পুনঃনির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রামকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া জায়গা বেদখলের বিষয়ে উপজেলা সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে চট্টগ্রাম১২ পটিয়া আসনের এমপি এনামুল হক এনাম গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ডাক্তারদের অভিযোগ পেয়ে এখানে পরিদর্শনে এসেছি। খুবই নাজুক অবস্থা। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক কমিটমেন্ট ছিল। এখানে স্বাস্থ্য সেবা তো দূরের কথা, মানুষ এসে বসবে সে পরিবেশটাও নেই। তিনি আরো বলেন, বেদখল হওয়া জমি অবশ্যই দখলদারদের ছাড়তে হবে। সরকারি জমি কেউ দখল করে রাখতে পারবে না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানুর রহমান, সহকারী কমিশনার ভূমি আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হক, উপজেলা বিএনপি নেতা মঈনুল আলম ছোটন ও পটিয়া সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগণভোটের রায় ও জুলাই সনদ নিয়ে সরকার জনমনে অনাস্থা বাড়িয়ে চলেছে : মঞ্জু
পরবর্তী নিবন্ধবেড়িবাঁধে বড় ধরনের ফাটল