ওয়াসার নেটওয়ার্কের আওতায় আসছে পুরো নগরী

নতুন করে বসানো হবে সাড়ে ৩শ কিমি পাইপলাইন বিশ্বব্যাংকের ৩ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প টেন্ডার আহ্বান, কাজ শুরু আগামী বছর

শুকলাল দাশ | বুধবার , ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ

পুরো নগরীকে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহের নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে নতুন করে সাড়ে ৩শ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ৩ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকার ঋণ সহায়তার এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর যেসব এলাকায় ওয়াসার পাইপলাইন নেই সেখানে নতুন করে পাইপলাইন বসানো হবে। একই সঙ্গে নগরীর সকল পুরনো পাইপলাইন পরিবর্তন করে নতুন করে বসানো হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, গত আগস্ট মাসে এই প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পুরো নগরী ওয়াসার পানি সরবরাহের নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। নগরীর আর কোথাও পানির সংকট থাকবে না।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ওয়াসা প্রতিষ্ঠার ৬৩ বছর পরও নগরীর পতেঙ্গা এলাকাসহ অনেক এলাকায় পাইপলাইন নেই। বিশ্বব্যাংকের এই প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো পাইপলাইন স্থাপন করা হবে। এছাড়া নগরীর যেসব এলাকায় ৫০৬০ বছরের পুরনো পাইপলাইন রয়েছে সেগুলো উত্তোলন করে নতুন পাইপলাইন বসানো হবে। আগামী বছর এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ সহায়তায় নগরীতে সাড়ে ৩শ কিলোমিটার পাইপলাইন প্রতিস্থাপন এবং পানি সরবরাহ ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদারে স্থাপন করা হবে ৪৬টি ডিএমএ (ডিস্ট্রিক্ট মিটারিং এরিয়া)। এছাড়া নগরীতে ১ লাখ গ্রাহককে ডিজিটাল মিটারের আওতায় আনা হবে এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য ৪০টি গভীর নলকূপও প্রতিস্থাপন করা হবে। তবে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে নগরীতে সাড়ে ৩শ কিলোমিটার পাইপলাইন প্রতিস্থাপন এবং পানি সরবরাহ ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদারে ৪৬টি ডিএমএ স্থাপনের কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২৯ তারিখ টেন্ডার গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ৩ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) এবং সরকার দেবে ৫৭৮ কোটি। এ প্রকল্পে চট্টগ্রাম ওয়াসা নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেবে ৭৪ কোটি টাকা।

প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, বিশ্বব্যাংকের এই প্রকল্পের আওতায় পুরো নগরী ওয়াসার পাইপলাইনের আওতায় আসবে। পতেঙ্গাসহ নগরীর যেসব এলাকায় ওয়াসার পাইপলাইন নেই সেখানে নতুন পাইপলাইন বসবে এবং পুরো নগরীতে যেখানে পুরনো পাইপলাইন রয়েছে সব উত্তোলন করে নতুন পাইপলাইন বসানো হবে। আগামী বছর এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প২ এর অধীনে নগরীতে মোট ৮শ কিলোমিটার পুরনো পাইপ তুলে নতুন পাইপ (ট্রান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন লাইন) বসানো হয়েছিল ২০২২ সালে। কিন্তু পতেঙ্গাসহ অনেক এলাকায় ওয়াসার সংযোগ নেই। এছাড়া খুলশী, একে খান, বায়েজিদ, অঙিজেন, কালুরঘাট ও চাক্তাই এলাকায় পুরাতন জরাজীর্ণ পাইপ, লিকেজ, ম্যানুয়াল মিটারিং ব্যবস্থার কারণে বিদ্যমান ৪০ হাজার সার্ভিস কানেকশনে নিরবচ্ছিন্ন ও সুষম চাপে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। উক্ত এলাকাসমূহে সুষম চাপে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পানির অপচয় রোধ করে রাজস্ব বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে উক্ত এলাকাসমূহে ৩০০ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি ৪৬টি ডিএমএ স্থাপন করা করা হবে। এর ফলে উক্ত এলাকাসমূহে সুষম চাপে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং পানির অপচয় রোধ করে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ
পরবর্তী নিবন্ধসড়কের ডিভাইডারে গাছের পরিবর্তে বিলবোর্ড স্ট্যান্ড