ভারত থেকে দেশে ফেরার পর আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের মালিকানাধীন একটি গাড়িতে চড়ে নিজ এলাকায় গিয়ে সংবর্ধনা নেওয়ার পুরোনো বিতর্ক ফের জাতীয় সংসদে উঠেছে। গতকাল বুধবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা নিয়ে কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ অনুযায়ী সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এ প্রসঙ্গ টানেন। খবর বিডিনিউজের।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রবাসীদের নানা সমস্যা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধী দলের এই এমপি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক রাজনৈতিক নেতা অতীতে প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভারত থেকে ফেরার পর সংবর্ধনা পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে নাজিবুর রহমান বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও দীর্ঘদিন বিদেশে প্রবাসী জীবন যাপন করতে হয়েছে। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও প্রবাসী জীবন যাপন করতে হয়েছে। তবে সকলের তো তার মতো রাজকপাল না। তিনি ফিরে এসেছিলেন, বীরোচিত সম্বর্ধনা পেয়েছিলেন। এরপর তিনি বলেন, ‘নিন্দুকেরা বলে, সেজন্য গতকালকে তিনি এস আলমের নাম নেননি। যার নুন খেতে হয়, তার তো কিছু গুণ গাইতেই হয়।’
পরে তার বক্তব্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন এবং মন্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, আই অ্যাপ্রিশিয়েট হিজ সেন্স অব হিউমার। উনি বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক ব্যক্তির গাড়িতে চড়ে সম্বর্ধনা নিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো ব্যক্তির গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নেয়নি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওই সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন না; বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলেন। তিনি বলেন, আমি আমার গাড়ি করে সংবর্ধনা নিয়েছি। আমার চারটি গাড়ি আছে, আমার চারজন ড্রাইভার আছে। খুব একটা গরিব মানুষ না।
কক্সবাজারে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় তখন ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশের সুযোগ ছিল না। কঙবাজারে যখন আমি গিয়েছি, লক্ষ লোকের সমাবেশ হয়েছিল। কোনো গাড়ি বিমানবন্দরে ঢোকার সুযোগ হয়নি। অনেক লোকের মাইক্রোবাস, জিপ ছিল। একটাতে উঠলাম, ওটাতে কেউ উঠতে দিল না। আরেকটাতে উঠলাম। তিনি বলেন, সমর্থকেরা পরে তাকে আরেকটি গাড়িতে তুলে দেন। পরে দেখা গেল, সেটা কোনো ব্যক্তির নামে গাড়ি না। ১৭–১৮ বছর আগের গাড়ি। যার নামে ছিল, সে আমার এলাকার মানুষ।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর তিনি তখনই প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তারপরও যদি এটা ভুল হয়ে থাকে, আমি জাতির সামনে দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম। সেটা ওই সময়ই ‘ক্লিয়ার’ হয়ে গেছে। এখন বিষয়টি পুনরায় সংসদে তোলার প্রয়োজন ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্পিকারের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা একটা পুরোনো ইস্যু। কার্যপ্রণালী বিধি পরীক্ষা করে যদি অসংসদীয় কিছু থাকে, সেটা এঙপাঞ্জ করতে পারেন। তবে একই সঙ্গে নাজিবুর রহমানের বক্তব্যের ভঙ্গির প্রশংসাও করেন তিনি। তার সেন্স অব হিউমারকে আমি আগামীবারও স্বাগত জানাব। এভাবেই পার্লামেন্টে ‘উইট’ থাকা দরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে দেখা হবে। তিনি বলেন, সেখানে যদি অসংসদীয় কোনো কিছু থাকে, সেটা এঙপাঞ্জ করা হবে।










