বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের তারকা ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা। রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের দুর্গম গ্রাম মঘাছড়িতে তার বেড়ে উঠা। ক্রীড়াই তাকে এনে দিয়েছে সুখ্যাতি ও তৈরি করেছে ব্যাপক শুভাকাঙ্ক্ষী। বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলে রীতিমতো চমক দেখিয়ে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন ঋতুপর্ণা চাকমা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ঋতুপর্ণা এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন। এখন দেশের অসংখ্য নারী ফুটবলারদের অনুপ্রেরণার নাম ঋতুপর্ণা।
অথচ তার শৈশব–কিশোর এত মসৃণ ছিল না।
২০২২ সালে প্রথমবার বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জেতার পর আশ্বাস দেওয়া হয় ঋতুপর্ণা চাকমাকে ঘর করে দেওয়ার। এরপর টানা দ্বিতীয়বারের মত ২০২৪ সালেও সাফ চ্যাম্পিয়ন হয় ঋতুপর্ণারা। তবে তাকে ঘর করে দেওয়ার সরকারের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত থমকে যায়। বিএনপি ক্ষমতায় আসার মাত্র চার মাসের মধ্যে ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক অনুদান দিয়ে পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে বাজেট অধিবেশনের এক ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, পাহাড়ি এলাকার সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ঋতুপর্ণা চাকমা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেনস এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের যোগ্যতা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।

এর আগে ঋতুপর্ণা চাকমার ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার সময়ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৫ সালে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন রাঙামাটিতে ঋতুপর্ণার বাড়িতে গিয়ে তার মা বসুবতি চাকমার খোঁজখবর নেন এবং ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। একই সময় তার মায়ের চিকিৎসার জন্য ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আর্থিক অনুদান পেয়ে ঋতুপর্ণা চাকমা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সহায়তা পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। সরকার যেভাবে সবসময় ক্রীড়াবিদদের পাশে দাঁড়ায় আমি নিজেই তার বড় প্রমাণ। শুধু এবারই নয় এর আগে আমার মায়ের অসুস্থতার সময়েও সরকার চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছিল এবং আর্থিক সাহায্য করেছিল।
ঋতুপর্ণা বলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে এমন মূল্যায়ন ও ভালোবাসা দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। সরকার যে আমাদের এতটা যত্ন নেয় তা দেখে খুব ভালো লাগে। এই সম্মান ও সহায়তা আমাকে দেশের জন্য আরও ভালো খেলার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করার প্রেরণা জোগাবে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সবার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।
আর্থিক সহায়তা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ঋতুপর্ণার মা বসুবতি চাকমা বলেন, গতকালকে (মঙ্গলবার) ঋতু আমাকে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘর নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য বড় সৌভাগ্য। আমরা খুব খুশি হয়েছি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং উনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। তিনি আরও বলেন, বহু আগে থেকে বলা হচ্ছে আমাদের ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। কিন্তু কোনো কিছু হয়নি। এখন আগের সরকার গেছে নতুন সরকার এসেছে, তারা কী করে দেখা যাক। নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, আমি আগের চাইতে এখন কিছুটা ভালো আছি। অপারেশন করেছি। এখন ডাক্তার দেখিয়ে দেখিয়ে ওষুধ খাচ্ছি। ছয় মাস পর পর চট্টগ্রামে ডাক্তারের কাছে যেতে হয়।










