আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও সিন্ডিকেট রোধে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ‘উৎসবে কমবে দাম, বাড়বে আনন্দ’–এই নতুন স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সাথে এক মতবিনিময় সভা শেষে গতকাল দুপুরে নগরীর সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে পণ্যের মূল্য হ্রাস করে ‘ফেস্টিভ সেল’ চালুকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এই নতুন যাত্রার ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রাম একটি ঐতিহাসিক জেলা, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক রাজধানী। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪–এর ছাত্র–জনতার আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের ভূমিকা ছিল উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো। আমরা এই চট্টগ্রাম থেকেই এবার বাজার ব্যবস্থাপনায় এক নতুন মানবিক সংস্কৃতির যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে উৎসবের সময় পণ্যের ওপর বিশেষ ছাড় বা ‘সেল‘ দেওয়া হলেও আমাদের দেশে কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়। যারা উৎসবের সময় সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেয়, তারা ব্যবসায়ী নয়, তারা রাষ্ট্রের শত্রু।
জেলা প্রশাসক জানান, দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ, রেয়াজুদ্দিন বাজার, বিভিন্ন দোকান মালিক সমিতি, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং শীর্ষস্থানীয় চেইন শপ–স্বপ্ন, আগোরা, বাস্কেট, শপিং ব্যাগ, খুলশী মার্টসহ সকল ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে দফায় দফায় আলোচনা করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এই মানবিক উদ্যোগকে সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং উৎসবের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন পেঁয়াজ, আদা, রসুন, আটা, তেল ইত্যাদির দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাইকারি বাজারের এই ছাড় যেন সাধারণ ভোক্তা বা খুচরা পর্যায়ে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে আমাদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে। উৎসবে সাধারণ মানুষের আনন্দ নিশ্চিত করতে আইনের সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান, সিএমপি’র ডিসি (প্রসিকিউশন) (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী, চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারের প্রতিনিধি, দোকান মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।











