দেড় দশক আগে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে ‘গুমের’ মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল–১ গতকাল রোববার এই আদেশ দেয় বলে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম জানান। গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম–খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে। এরপর ২৬ জুলাই রাতে তার বাসা থেকে তাকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়। প্রসিকিউশন গত বৃহস্পতিবার সাইফুরকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। সে অনুযায়ী গতকাল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হল। তবে সেনা হেফাজতে থাকায় তাকে আর নতুন করে গ্রেপ্তার করার প্রয়োজন হবে না। ওই পরোয়ানা জারির ফলে তাকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হবে এবং এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। খবর বিডিনিউজের।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাদের আর খোঁজ মেলেনি। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে ‘গুম’ করা হয়। আর র্যাবের গোয়েন্দা শাখা তাতে সরাসরি জড়িত ছিল বলে প্রসিকিউশনের ভাষ্য। বিমান বাহিনীর তখনকার স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান সে সময় র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের জামাতা সাইফুর সর্বশেষ বিমান সদর দপ্তরের ‘ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিং’ ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীর জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুরের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।










