চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের নবনির্মিত ভবনে গত ৩–৪ বছর ধরে ক্লাস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলেও তৈরি হয়নি কোনো নির্ধারিত পার্কি এরিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বৃহৎ এই অনুষদে প্রতিদিন ১৬টি বিভাগে ২৪১ জন শিক্ষক ও প্রায় সাড়ে ৭ হাজার শিক্ষার্থীর আনাগোনা থাকলেও যানবাহন রাখার উপযুক্ত জায়গা না থাকায় ভোগান্তির মুখে পড়ছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন কলা ভবনের সামনের চলাচলের মূল সড়ক ও ফুটপাতেই সারিবদ্ধভাবে পার্ক করে রাখা হয়েছে শিক্ষক–কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং বিভাগীয় যানবাহন। ফলে একদিকে যেমন পথচারী শিক্ষার্থীদের হেঁটে চলার পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে ভবনটির সৌন্দর্য। এছাড়া ক্লাস শুরুর আগে ও ছুটির সময়ে ফুটপাতগুলোতে দেখা যায় শিক্ষার্থী ও যানবাহনের বিশৃঙ্খলা। সেই সঙ্গে ফারসি বিভাগের বারান্দাও যেন হয়ে ওঠে একটি যানবাহন রাখার পার্কিং এরিয়া।
কলা অনুষদের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জানান, আধুনিক সুবিধার কথা বলে নতুন ভবনে বিভাগগুলো স্থানান্তর করা হলেও পার্কিংয়ের মতো মৌলিক একটি বিষয় পুরোপুরি উপেক্ষিত রয়ে গেছে। আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী নুরুল করিম বলেন, নতুন ভবন অনেক সুন্দর হয়েছে সত্য, কিন্তু ভবনের সামনে যেভাবে এলোমেলোভাবে বাইক ও গাড়ি রাখা হয়, তাতে পুরো ভবনের সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছে। একসাথে হাঁটাচলা করতেও ভয় লাগে কখন না জানি গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে ক্ষতি হয়ে যায়।
যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, নির্ধারিত পার্কিং জোন না থাকায় ফুটপাতে এলোমেলোভাবে গাড়ি রাখতে হচ্ছে। এতে যেমন শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে, তেমনি গাড়ির অপ্রীতিকর কিছু ঘটনার ঝুঁকিও থেকে যাচ্ছে।
পার্কিং এরিয়া না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি স্বীকার করেন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদে ডিন প্রফেসর ড. মো. ইকবাল শাহীন খান। তিনি বলেন, কলা অনুষদের সামনে ও ফারসি বিভাগের বারান্দায় শিক্ষার্থীরা এলোমেলোভাবে সাইকেল, বাইক ও গাড়ি পার্ক করার কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে এবং তারা পার্কিং সুবিধার দাবি জানিয়েছে।
সমস্যা সমাধানে তাদের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ভবনের সামনের অংশ বা মূল নান্দনিক সৌন্দর্য যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য সামনের দিকে ছাউনি না বানিয়ে ভবনের পশ্চিম পাশে বা পেছনের দিকে পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশল দপ্তরের সাথে পূর্বে কথা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে চাহিদার ভিত্তিতে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ছৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল বিষয়টির সমালোচনা করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একাডেমিক ভবনে পার্কিং এরিয়া নেই। এছাড়া ভবনটির নির্মাণের প্ল্যানিংয়ে পার্কিং এরিয়ার ডিজাইন ছিল না। তাই পার্কিং ব্যবস্থাটি বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, একাডেমিক এরিয়ায় ভারী যানবাহন বা শেড দিয়ে পার্কিং এরিয়া তৈরি করা সমীচীন নয়, বরং শেডেড করিডোরগুলো প্রধানত পথচারীদের হাঁটার জন্য তৈরি করা হয়েছে। পার্কিং এরিয়া নির্ধারণ ও প্রপোজাল অনুমোদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে। আমরা বাস্তবায়নে কাজ করি।
এ বিষয়ে চবি উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল্–ফোরকান বলেন, খুব শিগগিরই ভবনের আশপাশের উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করে একটি সুপরিকল্পিত ও নিরাপদ পার্কিং জোন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।












