ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার পর, এবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইউরোপিয়ান প্রফেশনাল ফুটবল লিগস। সংস্থাটির প্রধান ক্লাউদিউস শাফার বলেছেন, এমন একটি বিতর্কিত ঘটনার পর কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধানের স্বাভাবিক পরিণতি হওয়া উচিত পদত্যাগ কিংবা অপসারণ। তার মতে, ইনফান্তিনোর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ নেই। ইনফান্তিনোর ওপর সবার ক্ষোভ মূলত সমপ্রতি ফিফার নেওয়া বিতর্কিত ‘বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে’ ঘিরে। বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা। তাদের ভাবনা ছিল, বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনার জন্য একটি নতুন সংস্থার প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রি করে ৪.২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহ করা। গত মঙ্গলবার ফিফা এই প্রস্তাব ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়ে। উয়েফা, উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা (কনক্যাকাফ) ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) তীব্র প্রতিবাদ জানায়। উয়েফা তো বিশ্বকাপসহ ফিফার সব আসর বর্জনের হুমকিও দেয়। চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সেটা বাতিল করার ঘোষণা দেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো। ‘একক সিদ্ধান্তে’ যেভাবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন ফিফা প্রধান, এরপর আর এই পদে তার ‘গ্রহণযোগ্যতা’ দেখছেন না ইউরোপের ৫৩টি পুরুষ ও নারী পেশাদার ফুটবল লিগের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থার প্রধান। ‘যখন দেখলাম পুরো বিষয়টি কীভাবে এগিয়েছে এবং ফিফার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের এতে সম্পৃক্তই করা হয়নি, তখন যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনে পরিণতি সাধারণত একটাই হয়।’ ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনো আর গ্রহণযোগ্য নন কি না, একটি সুইস পত্রিকার এমন প্রশ্নে শাফার বলেন, ‘যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি কাউকে কিছু না জানিয়ে এমন কোনো ব্যবসায়িক চুক্তির চেষ্টা করে, তবে সাধারণত এর পরিণতি এটাই হয়।’ শেষ পর্যন্ত ‘নিজের পরিকল্পনা’ থেকে ইনফান্তিনো সরে এলেও, তার প্রতি আস্থা হারানোর কথা শনিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে উয়েফা ও কনক্যাকাফ। শাফারের মনে হয়েছে, ফিফার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে আরও বেশি এবং আরও বড় প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের জন্য সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করা। ‘এটা কেবল আর্থিক সুবিধার জন্যই ভাবা হয়েছে; বাকি সবকিছুকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।’ শাফারের মতে, ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচিতে আরও বেশি ম্যাচ যুক্ত হতো। আর সেটা ঘরোয়া লিগগুলোর জন্য ক্ষতির কারণ হতো। তাই এর বিরোধিতা করেছিল ইউরোপিয়ান লিগস। কোনো আলোচনা না করে ইনফান্তিনো যেভাবে প্রস্তাবটি সামনে এনেছিলেন, তাতে বেশ অবাক হয়েছেন শাফার। ‘এই পরিকল্পনা সম্পর্কে কেউ জানত না, এমনকি ফিফা কাউন্সিল, গভর্নিং বডিও না। এই বিষয়ে সভাপতি সম্পূর্ণ একাই পদক্ষেপ নেন, এতে আমি খুবই অবাক হয়েছি।’










