ইতালির রাজধানী রোমে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের তিন সদস্য। এ ঘটনার প্রায় এক বছর আগে পরিবারটির গ্রামের বাড়িতে ডাকাত দলের একটি উড়ো চিঠি এসেছিল বলে দাবি স্বজনদের। সেই চিঠিতে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা–পয়সা দাবি করা হয়। আর দাবি পূরণ না হলে গৃহকর্তার প্রবাসী ছেলে ও নাতিকে হত্যার পাশাপাশি পরিবারের নারী সদস্যদের নির্যাতনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পরিবার বিষয়টি থানাকেও জানিয়েছিল। এদিকে নৃশংস এ হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে ইতালির পুলিশ। পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজনের নাম শাহাদাত হোসেন, তার বাড়িও বাংলাদেশে। খবর বিডিনিউজের।
বিদেশের মাটিতে তিনজনকে নৃশংসভাবে হারানোর ঘটনা শুধু স্বজনদের নয়, পুরো প্রবাসী সমাজকে নাড়া দিয়েছে বলে জানান কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান।
গত শুক্রবার রাতে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের পিনেতা সাচেত্তি সংলগ্ন ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্লাটে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পরিবারের একমাত্র ছেলে; যিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এএনএসএ এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও ঘটনাটি প্রকাশ করা হয়। নিহতরা হলেন– উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু আক্তার (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা।
সিরাজুল ইসলামের পাঁচ মেয়ে ও একমাত্র ছেলে কামাল। একসময় কামাল একাই ইতালিতে থাকতেন। পরে তিনি তার পরিবারকেও সেখানে নিয়ে যান। ইতালি যাওয়ার আগে কামালের পরিবার কিছুদিন বসিরহাট ও ঢাকায়ও ভাড়া বাসায় বসবাস করেছে। রোমের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, ঘটনার সময় ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার ও শোরগোল শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় বাবুলের ২০ বছর বয়সী ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।












