পটিয়ার আলোচিত পাঁচ বছর বয়সী শিশু জায়হান আবরার হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাদিয়া সুলতানা নিহাকে (১৯) তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার পটিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পটিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, অপহরণের নাটক এবং মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে সাজানো পুরো ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে প্রশাসন এখনই ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করছে না।
তদন্তে জানা গেছে, গত ১৬ জুন দুপুরে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু জায়হান আবরার। বিকেলে পরিবারের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার হয় হাতে লেখা একটি চিরকুট। সেখানে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ এবং পরিবারের একটি মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি প্রথমে অপহরণ বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত যত এগোয় ততই সামনে আসে ভয়ংকর সব সত্য।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্ত এখনো চলমান। হত্যার পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য এবং অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মামলার প্রতিটি দিক অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আদালতে দ্রততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
এর আগে গত বুধবার চট্টগ্রামের আদালতে প্রধান আসামি সাদিয়া সুলতানা নিহা, তার বাবা মো. সাইফুদ্দিন এবং মা শাহনুর আক্তারকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পটিয়া থানা পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত নিহার তিন দিনের এবং তার বাবা–মায়ের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহতের বাবা মো. শাহজাহান বাদী হয়ে পটিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি নিহা, তার বাবা–মাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২–৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে শিশু জায়ান হত্যার ঘটনা পুরো পটিয়াবাসীকে নাড়া দিয়েছে। দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকায় এখনো চলছে স্বজনদের আহাজারি। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে।











