নির্বাহী আদেশের পরিবর্তে বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাটা যথাযথ মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, নির্বাহী আদেশে নয়, বরং আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই ফ্যাসিবাদী মাফিয়া সংগঠনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। আমরা নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করাকে সঠিক মনে করি না। দেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ব্যক্তি ও সংগঠন– উভয়কেই বিচারের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। আমরা সেই আইনি পথেই হাঁটছি। গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে জুলাই অভ্যুত্থানের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শিরোনামে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এ আলোচনা সভা আয়োজন করে। খবর বিডিনিউজ ও বাংলানিউজের।
সম্প্রতি দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ আসে শেখ হাসিনার এক বক্তব্যকে ঘিরে। গেল বৃহস্পতিবার রয়টার্সে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ তিনি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। তার সঙ্গে দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ ফিরবেন বলেও আভাস দেন শেখ হাসিনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে শেখ হাসিনার সেই সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টানেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে। ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাগাদা দেওয়া হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা হবে। তার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই, দেশে পা রাখা মাত্রই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানিয়েছে। গণভবনে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেবে– স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পরিণতি কী হতে পারে। এ দেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনায় সব গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচার জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানও তার ব্যতিক্রম নয়। শিক্ষার্থীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে যাতে আর কখনো স্বৈরাচারের কবলে পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যেই সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্লোগাননির্ভর সন্ত্রাসী রাজনীতির অবসান ঘটেছে। ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের বিদায় দেশের শিক্ষাঙ্গনে নতুন গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবীব উন নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বক্তব্য রাখেন।












