শুকনো পাতার হাহাকারে বিদায়ের করুণ রাগিণী
তপ্ত নিদাঘে ভস্ম হোক জীর্ণ আস্তরণ
হে বৈশাখ, তুমি রোদে অগ্নিস্নাত এক উদ্ভাস
মুছে দিতে আসো গ্লানি আর ব্যর্থতার আবরণ।
তামাটে মুখে ঘাম ঝরানো কৃষকের শ্রম
ফসলের মাঠে ফলে আগামীর সোনার উদ্যম;
বৈশাখী ছোঁয়ায় ধন্য মেহনতি মানুষের সকল ক্ষণ
সিক্ত তৃষ্ণার্ত মাটি প্রাণে জাগায় সজীব অর্পণ।
পান্তা ইলিশের ঘ্রাণ আর মাটির থালার টান
হালখাতার পাতায় দেনা চুকিয়ে তোলে নির্ভার গান
ক্ষমা ও সহিষ্ণুতায় শুদ্ধবোধে স্নাত বিবেক
অসহায়ের পাশে আজ ঘটাবে মানবতার অভিষেক।
কালবৈশাখীর উত্তাল ঝড়ে চূর্ণ বিভেদের সব প্রাচীর
সবার উপরে মানুষ সত্যের চেতনায় গভীর
হৃদয়ের দগ্ধ প্রান্তরে ঝরুক সমপ্রীতির ঝর্ণাধারা
হাসি মুখে ছড়াক দিকে দিকে মৈত্রীর ধ্রুবতারা।
এসো হে নববর্ষ, নিরাময় করো সব পুরনো ক্ষত
শান্তির অমল আলোয় এভাবেই
বাংলার পথচলা হবে অব্যাহত;
মানুষে মানুষে মিলনের শাশ্বত কল্লোলে
বৈশাখী ভোরে সদ্যোজাত মনুষ্যত্ব
ফুটুক প্রাণের হিল্লোলে।








