খাগড়াছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে খাগড়াছড়ি–পানছড়ি ও রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাথে দীঘিনালার সড়ক যোগাযোগ আরো সহজ ও নিরাপদ হবে। বাঘাইছড়ি প্রশাসনিকভাবে রাঙামাটির জেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও যাতায়াত সুবিধার কারণে সড়কটি খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের আওতাধীন।
সড়ক দুটি প্রশস্ত করা হলে খাগড়াছড়ির সঙ্গে পানছড়ি এবং রাঙামাটির বাঘাইছড়ি–মারিশ্যা এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে পর্যটন, কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা–বাণিজ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একনেকে প্রকল্পটি পাশ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন, অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে খাগড়াছড়ি–পানছড়ি জেলা মহাসড়ক। প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি বিদ্যমান ১২ ফুট থেকে ১৮ ফুটে প্রশস্ত করা হবে। পাশাপাশি সড়ক মজবুতীকরণ, রিটেইনিং ওয়াল ও ড্রেইনেজ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ করা হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১২ কোটি টকা।
এছাড়া বাঘাইহাট–মারিশ্যা জেলা মহাসড়ক ১২ ফুট থেকে ১৮ ফুটে প্রশস্তকরণসহ বিদ্যমান সড়ক মজবুতীকরণ, রিটেইনিং ওয়াল ও ড্রেইনেজ নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ১১৫ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প দুটো ২০৩০ সালে ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্পটি পাশ হওয়ায় উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারা। পানছড়ির বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও জীবন চাকমা বলেন, মাত্র ১২ ফুট প্রস্থের সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করা খুব কঠিন। এমনিতে রাস্তা ভাঙা, তার উপর সরু সড়ক। ফলে এখানে প্রায় সময় চলাচলে সমস্যা হয়। সময় বেশি লাগে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আমরা চলাচলে স্বস্তি পাব।
বাঘাইছড়ি উপজেলার বাসিন্দা মো. নিজাম উদ্দিন বাবু বলেন, এই সড়কটির উন্নয়ন হলে অনেক দুর্ঘটনা কমবে এবং অনেক পর্যটক ও বাঘাইছড়ি আসবে। সরু সড়ক এবং অতিরিক্ত বাঁক হওয়ার কারণে আমাদের প্রচন্ড ভোগান্তি হয়। সড়ক বড় হলে চলাচলে সুবিধা পাব।












