পারিবারিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করে আদালতের কাছে জামিন চেয়ে আবেদন করেন মো. পারভেজ। কিন্তু উক্ত আবেদন নাকচ করে দিয়ে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে দেন। এতেই বাধে বিপত্তি। তার নিয়োজিত আইনজীবী হঠাৎ বলে উঠেন, মাননীয় আদালত–আত্মসমর্পণকৃত ব্যক্তি মো. পারভেজ নয়, যিনি আত্মসমর্পণ করেছেন তার নাম হচ্ছে হেলাল।
পারভেজের স্থলে হেলালকে আদালতে আত্মসমর্পণ করানোর এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মোস্তাকিম বিল্লাহ রাকিব ও হেলালের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশে গত বছরের ২৭ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলার বাদী হচ্ছেন–চট্টগ্রামের ২য় অতিরিক্ত সিনিয়র সিভিল ও পারিবারিক আদালত সদরের বেঞ্চ সহকারী মো. নবীউল আলম। মামলার তদন্তের ভার পড়ে উপ–পরিদর্শক (এসআই) মো. জাকের হোসেনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তিনি গত ২৮ মার্চ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এতে আইনজীবী মোস্তাকিম বিল্লাহ রাকিব ও হেলালের পাশাপাশি পারভেজ ও আইনজীবী রাকিবের অধীনস্থ জুনিয়র অ্যাডভোকেট রোকসানা আক্তারকেও আসামি করা হয়। পারভেজকে করা হয় ৪নম্বর আসামি। এই ৪ নম্বর আসামি তথা পারভেজ ‘পরিচয় গোপন পূর্বক ছদ্মবেশ ধারণসহ নথিপত্র জালিয়াতি’ করার উক্ত মামলায় গতকাল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে একটি আবেদন করেন। শুনানি শেষে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকের আদালত আবেদনটি নাকচ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পারিবারিক মামলায় ‘নিজের স্থলে অন্যকে হাজির করিয়ে জামিন নিতে চেষ্টা করে তাৎক্ষণিক রেহাই পেলেও অবশেষে দণ্ডবিধির ২০৫, ৪৬৬ ও ৩৪ ধারা তথা ‘পরিচয় গোপন পূর্বক ছদ্মবেশ ধারণসহ নথিপত্র জালিয়াতি’র মামলায় রেহাই মেলেনি মো. পারভেজের।
মামলার নথিপত্রে দেখা যায়, পারভেজের বিরুদ্ধে এক নারী ভরণপোষণ ও দেনমোহর চেয়ে চট্টগ্রামের পারিবারিক আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলায় ডিক্রিও হয়। ডিক্রি অনুযায়ী ১২ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও পারভেজ সেটি করেননি। একপর্যায়ে ডিক্রিকৃত উক্ত টাকা আদায়ের জন্য ২০১৯ সালে ওই নারী আদালতে পারিবারিক জারি মামলা দায়ের করেন। সেই অনুযায়ী আদালত কর্তৃক পারভেজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু হয়।
আদালতসূত্র জানায়, আদালতের সেই পরোয়ানা অনুযায়ী–ই গত বছরের ২৬ নভেম্বর মূলত পারভেজের জায়গায় তার প্রতিবেশী হেলালকে আত্মসমর্পণ করানো হয়। আদালতে জমা দেওয়া হয় ১ লাখ টাকা। কিন্তু ডিক্রিকৃত টাকার চেয়ে জমা দেওয়া টাকার পরিমাণ অপর্যাপ্ত হওয়ায় বিচারক সেদিন ‘পারভেজ’কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে দেন। সেদিন আইনজীবী মোস্তাকিম বিল্লাহ রাকিব নিজের মুখে উল্লেখ করেছিলেন যে, আত্মসমর্পণকৃত ব্যক্তি মামলার মূল ব্যক্তি না। তিনি তার অধীনস্থ জুনিয়র অ্যাডভোকেট রোকসানা আক্তারের মাধ্যমে পারভেজের জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আত্মসমর্পণকৃত ব্যক্তি পারভেজ নয়। আত্মসমর্পণকৃত ব্যক্তি হলেন হেলাল। যার বাড়ি রাউজানের কদলপুর এলাকায়। পারভেজের বাড়িও সেখানে। আদালতসূত্র আরো জানায়, ঘটনা পরবর্তী আদালতের পক্ষ থেকে আইনজীবী মোস্তাকিম বিল্লাহ রাকিবকে শোকজ করা হয়েছিল। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বার কাউন্সিলকেও বলা হয়।
চার্জশিট দাখিলকারী উপ–পরিদর্শক মো. জাকের হোসেন গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, হেলালকে ব্যবহার করে জামিন নিতে চেয়েছিলেন পারভেজ। কিন্তু হেলালকে সিডব্লিও মূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিতেই বের হয়ে আসে আদালতের সাথে প্রতারণা ও জালিয়াতির এমন ঘটনা।












