রাত ৮টার পর দোকান বন্ধ কাল থেকে

আজাদী অনলাইন | রবিবার , ১৯ জুন, ২০২২ at ৯:২৮ অপরাহ্ণ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশে রাত ৮টার পর থেকে দোকান, মার্কেট, বিপণিবিতান বন্ধ রাখার আদেশ কার্যকর হবে আগামীকাল সোমবার(২০ জুন)।

তবে রাত ৮টার পর তামাক, পান-বিড়ি, সিগারেটের দোকান খোলা থাকবে কিন্তু বন্ধ থাকবে মুদি দোকান।

আজ রবিবার(১৯ জুন) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় যেখানে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান জানান, সার্বিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করতে সরকার শ্রম আইন-২০০৬ এর ১১৪ ধারা কঠোরভাবে প্রতিপালনের পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি, এফবিসিসিআইসহ সব ব্যবসায়ী সংগঠন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারের এ উদ্যোগ সর্বসম্মতভাবে মেনে নিয়েছেন।

বৈঠকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছাড়াও এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, “বৈঠকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পোশাকের বিপণিবিতানগুলো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ চেয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আগামী ১ জুলাই থেকে যেন এমন সুযোগ দেওয়া হয়-সেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৈঠক থেকে সুপারিশ আকারে তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাবে।”

প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, “ঈদের সময় বেশি সময় দোকান খোলা রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট উপস্থাপন করা হবে।”

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাঁচাতে রাত ৮টার পর সারাদেশে দোকান, বিপণী বিতান, মার্কেট ও কাঁচাবাজার বন্ধ রাখার আগের আদেশ যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেয় সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া ওই নির্দেশনায় ‘বিশ্বব্যাপী জ্বালানির অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে পদক্ষপে গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন’ বলে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, “বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১১৪ ধারার বিধান কঠোরভাবে প্রতিপালনপূর্বক সারা দেশে রাত আটটার পর দোকান, শপিংমল, মার্কেট, বিপণীবিতান, কাঁচাবাজার ইত্যাদি খোলা না রাখার বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হলো।”

শ্রম আইনের ১১৪ এর উপধারা ৩ এ বলা হয়েছে, “কোনো দোকান, কোনো দিন রাত্রি ৮ ঘটিকার পর খোলা রাখা যাইবে না। তবে শর্ত থাকে যে কোনো গ্রাহক যদি উক্ত সময়ে কেনাকাটার জন্য দোকানে থাকেন তাহা হইলে উক্ত সময়ের অব্যাবহতি আধাঘণ্টা পর পর্যন্ত উক্ত গ্রাহককে কেনাকাটার সুযোগ দেওয়া যাইবে।”

১১৪ এর উপধারা (১) এ বলা হয়েছে, প্রত্যেক দোকান বা বাণিজ্য বা শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতি সপ্তাহে অন্ততঃ দেড় দিন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকিবে। (২) কোন এলাকায় উক্তরূপ কোন প্রতিষ্ঠান কোনে দেড় দিন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকিবে তাহা প্রধান পরিদর্শক স্থির করিয়া দিবেনঃ তবে শর্ত থাকে যে প্রধান পরিদর্শক সময় সময় জনস্বার্থে উক্তরূপ নির্ধারিত দিন কোনো এলাকার জন্য পুনঃ নির্ধারিত করিতে পারিবেন।

তবে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে না। যথাঃ- ‘(ক) ডক, জেটি, স্টেশন অথবা বিমানবন্দর এবং পরিবহন সার্ভিস টার্মিনাল অফিস; (খ) প্রধানতঃ তরি-তরকারি, মাংস, মাছ, দুগ্ধ জাতীয় সামগ্রী, রুটি, পেস্ট্রি, মিষ্টি এবং ফুল বিক্রির দোকান; (গ) প্রধানতঃ ওষুধ, অপারেশন সরঞ্জাম, ব্যান্ডেজ অথবা চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান; (ঘ) দাফন ও অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রির দোকান; (ঙ) প্রধানতঃ তামাক, সিগার, সিগারেট, পান-বিড়ি, বরফ, খবরের কাগজ, সাময়িকী বিক্রির দোকান এবং দোকানে বসিয়া খাওয়ার জন্য [হালকা] নাশতা বিক্রির খুচরা দোকান; (চ) খুচরা পেট্রোল বিক্রির জন্য পেট্রোল পাম্প এবং মেরামত কারখানা নয় এমন মোটর গাড়ির সার্ভিস স্টেশন; (ছ) নাপিত এবং কেশ প্রসাধনীর দোকান; (জ) যে কোন ময়লা নিষ্কাশন অথবা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা; (ঝ) যে কোন শিল্প, ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান যাহা জনগণকে শক্তি, আলো-অথবা পানি সরবরাহ করে;

তবে শর্ত থাকে যে একই দোকানে অথবা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানে যদি একাধিক ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হয় এবং উহাদের (ঞ) ক্লাব, হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবার দোকান, সিনেমা অথবা থিয়েটারঃ অধিকাংশ তাহাদের প্রকৃতির কারণে এই ধারার অধীন অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্য তাহা হইলে সমগ্র দোকান বা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে উক্ত রূপ অব্যাহতি প্রযোজ্য হইবে।”

সভায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহছানে এলাহী, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মহ. শের আলী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নুসরাত জাবীন বানু, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ করিম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. নূর কুতুব আলম মান্নান উপস্থিত ছিলেন।