নির্বাচন উপযোগী ইউপির তালিকা যাচাইয়ে ইসির নির্দেশ

চট্টগ্রামে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ১শ ইউপিতে নির্বাচনের সম্ভাবনা

শুকলাল দাশ | শনিবার , ৭ নভেম্বর, ২০২৬ at ৫:২১ পূর্বাহ্ণ

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়নগুলোর তালিকা যাচাই করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের (জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের) নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তালিকায় কোনো ইউনিয়নের নাম বাদ পড়েছে কি না, সীমানাসংক্রান্ত বিরোধ বা আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

নির্বাচন উপযোগী কোনো ইউনিয়ন পরিষদে কোনো বিষয় সংশোধনের প্রয়োজন হলে আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে তা নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়–৩ শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে। ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ–সংক্রান্ত চিঠি দেশের সব জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন।

এবার পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন করছে নির্বাচন কমিশন। গত ১২ অক্টোবর ঘোষিত রোড ম্যাপ অনুযায়ী প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি। আগামী ১০ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপের ভোট হবে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ভোট হবে ২৭ মে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ১৬ উপজেলায় ১৯১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এরমধ্যে ১৮৯টি ইউনিয়ন নির্বাচনের উপযোগী রয়েছে। দুটিতে জটিলতা রয়েছে। এরমধ্যে বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডীর ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করে আলাদা ইউনিয়নের প্রস্তাবনা রয়েছে। আর সন্দ্বীপের উড়িরচরের সীমানা বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। এসব কারণে এই দুটি ইউনিয়নে নির্বাচন করার পরিবেশ আপাতত নেই। নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়।

চট্টগ্রামে ১৫ উপজেলার নির্বাচন উপযোগী ১৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রথম ধাপে ২১ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি সাত উপজেলার ১০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের তালিকায় জানা গেছে, চট্টগ্রামে সর্বশেষ ২০২১ সালে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মেয়াদপূর্ণ হওয়া এসব ইউনিয়নের মধ্যে আগামী জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে চট্টগ্রামে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, মীরসরাই, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারী উপজেলার ১০০টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তৃতীয়–চতুর্থ ধাপে কর্ণফুলী, পটিয়া, লোহাগাড়া, আনোয়ারা, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার ৮৯টি ইউপিতে ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমদ বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে আমরা সকল প্রস্তুতি গুছিয়ে রাখছি। নির্বাচন কমিশন যখন যে নির্দেশনা দেবে, সেভাবে আমরা কাজ শুরু করবো। এদিকে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছে।

এদিকে গত ৪ নভেম্বর ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার সব উপজেলার নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে তালিকায় নির্বাচন উপযোগী সব ইউনিয়নের নাম যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, কোনো ইউনিয়নের নাম বাদ পড়েছে কি না এবং আইনি জটিলতা বা সীমানাসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য রয়েছে কি না, তা পুনরায় যাচাই করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, তালিকা যাচাইয়ের পর ইউনিয়ন পরিষদের নাম, তারিখ, মামলা, সীমানাসংক্রান্ত জটিলতা, ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে সংশোধনের প্রয়োজন হলে আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে তা নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়–৩ শাখায় পাঠাতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের তালিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে প্রথম ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল সন্দ্বীপ উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে। এই ১৪ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। সেই হিসেবে নির্বাচন কমিশনের আগামী নভেম্বরের প্রথম ধাপের নির্বাচনে সন্দ্বীপের এই ১৪ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের তালিকায় চট্টগ্রামে সর্বশেষ ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল মীরসরাই উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন, ফটিকছড়ি উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন (ফটিকছড়িতে ১২টি এবং উত্তর ফটিকছড়িতে ৬টি) এবং সীতাকুণ্ড উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে। একই সময়ে রাউজানের ১৪ ইউপিতেও তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল কিন্তু রাউজানের কোনো ইউনিয়নে নির্বাচন হয়নি। সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। একই বছরের ২৮ নভেম্বর রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৫ ইউপিতে ও হাটহাজারী উপজেলার ১৪ ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এদিকে চলতি নভেম্বরে মেয়াদ পূর্ণ হবে মীরসরাই, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারীর ৮৬টি ইউনিয়নের।

পরবর্তী ধাপে কর্ণফুলী উপজেলার ৫টি, পটিয়া উপজেলার ১৭টি, লোহাগাড়া উপজেলার ৯টি, আনোয়ারা উপজেলার ১১টি, বোয়ালখালী উপজেলার ৮টি, সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদে।

চট্টগ্রামে সবার শেষে বাঁশখালী উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বাঁশখালীর ১৪ ইউনিয়ন পরিষদে সর্বশেষ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২২ সালের ১৫ জুন। এই উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২০২৭ সালের জুনে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনগরে ফ্লাইওভার থেকে সরকারি কার্যালয় লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ