দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই–রিকশার (যানবাহনের) নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। গতকাল রোববার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বিধিমালা নিয়ে কথা বলতে এ ব্রিফিংয়ে আসেন প্রতিমন্ত্রী, যেখানে পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনার পরিকল্পনাও শোনান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে বিধিমালাটি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। এখন ই–রিকশা নিবন্ধনে আর কোনো আইনগত বাধা নেই। দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন প্রথমে ই–রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করবে। পর্যায়ক্রমে সব ই–রিকশাকে আইনের আওতায় আনা হবে। খবর বিডিনিউজের।
ফি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই–রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য দিতে হবে চার হাজার টাকা। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই–রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য ফি দিতে হবে ৫ হাজার টাকা। এভাবে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত এসব ই–রিকশা চলাচল করতে পারবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন বিধিমালা আপাতত দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে কার্যকর হবে। পৌরসভা এলাকায় ই–রিকশা নিয়ন্ত্রণে নিতে পৌরসভার আইন সংশোধন করতে হবে। এরপর সেসব এলাকার জন্যও প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।
‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬‘ এর প্রজ্ঞাপন জারি হয় ২৯ অক্টোবর। বিধিমালায় এ যানকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে ব্যাটারিচালিত ই–রিকশা হিসেবে, যার যাত্রী ধারণের ক্ষমতা হবে দুই থেকে চারজন। এর সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই–রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও বাস র্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) সড়কে ই–রিকশা চলাচল করতে পারবে না। স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ই–রিকশার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। অনুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট বা গ্যারেজ ছাড়া ই–রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাবে না। পর্যায়ক্রমে চার্জিং স্টেশনে নেট মিটারিং, সৌর প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া কথা বলা হয়েছে বিধিমালায়। বিধিমালা অনুযায়ী, ই–রিকশার উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স নিতে হবে।











