২০ মিনিটে ঘটল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো হ্যাকিং

| শনিবার , ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে হামলা চালিয়ে ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা, যা ক্রিপ্টো ইতিহাসে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা।

এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের বার্তা ও ব্লকচেইন লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবহারকারীদের নিয়মিত লেনদেন প্রক্রিয়ায় বাইন্যান্স যেসব ওয়ালেট ব্যবহার করত, তা থেকেই মোটা অংকের এ ক্রিপ্টোকারেন্সি সরিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স জানিয়েছে, প্রথমে তারা ধারণা করেছিল, একটি হ্যাক হওয়া ল্যাপটপের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে তদন্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কয়েকটি দুর্বলতার সন্ধান পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বাইন্যান্স। খবর বিডিনিউজের।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট লিখেছে, গ্রাহকদের সম্পদ সুরক্ষায় বাইন্যান্সের নিজস্ব একটি তহবিল রয়েছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা লক্সঘনের ঘটনায় গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে এই তহবিলে ১০০ কোটি ডলারের বিটকয়েন সংরক্ষিত আছে।

কোম্পানির কো–সিইও রিচার্ড টেং বলেছেন, এ সাইবার হামলায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা ওই সুরক্ষা তহবিল ও কোম্পানির নিজস্ব সম্পদ থেকে পূরণ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্লকচেইন বিশ্লেষক কোম্পানি ‘টিআরএম ল্যাবস’ বলেছে, লেনদেন অনুমোদনের জন্য ব্যবহৃত বাইন্যান্সের ‘সাইনিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ বা ডিজিটাল স্বাক্ষর অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গিয়েছিল হ্যাকাররা। এর ফলে তারা আক্রান্ত ওয়ালেটগুলোর সব সম্পদ খালি করে নেওয়ার সুযোগ পায়। ব্লকচেইন রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার কিছু পরে ওই চুরির কাজ শুরু হয়। মোটামুটি ২০ মিনিটের মধ্যে তহবিলের বড় অংশ সরিয়ে ফেলে হ্যাকাররা। অর্থ সরিয়ে নেওয়ার পর হ্যাকাররা দ্রুত সেগুলো এমন জায়গায় স্থানান্তরের চেষ্টা করে, যেখানে বাইন্যান্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা স্টেবলকয়েন ইস্যুকারীরা সেগুলো জব্দ করতে পারবে না। তবে পরিস্থিতি টের পেয়ে স্টেবলকয়েন সরবরাহকারীরা চুরি যাওয়া মোট সম্পদের প্রায় অর্ধেক তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, হ্যাকাররা চুরি করা বিভিন্ন কয়েন অন্য ডিজিটাল সম্পদের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলবে বা অপরিচিত কোনো এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করে পাচার করার চেষ্টা করবে। গতকাল শুক্রবার প্রধান প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম কমার পাশাপাশি স্টেবলকয়েনের সার্বিক বাজারদর কমেছে, যা থেকে ইঙ্গিত মেলে, বিনিয়োগকারীরা ডিজিটাল সম্পদ থেকে দ্রুত নিজেদের অর্থ তুলে নিচ্ছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটি, তদন্ত কমিটি গঠন বিমানের
পরবর্তী নিবন্ধমিয়ানমারে ৪০ হাজার কেজি সিমেন্ট পাচারের চেষ্টা