ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে থামিয়ে বাংলাদেশের লিড মিলেছিল ২৭ রানের। পর্যাপ্ত বোলিং না পেয়েও চার উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার ছিলেন নাঈম হাসান। সেই নাঈমই এখন আটে নেমে লড়াই করছেন ব্যাট হাতে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ৭৯। শের–ই–বাংলার উইকেটে স্পিন ধরছে বেশ, মিলছে টার্ন। বাউন্সও অসমান। চতুর্থ ইনিংসে কাজটা সহজ হবে না ক্যারিবিয়ানদের জন্যও। তবে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পুঁজি তো অন্তত গড়তে হবে বাংলাদেশকে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের অদক্ষতা আর অসচেতনতা বাংলাদেশের স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থতার মিছিল শুরু হয় তানজিদ হাসানকে দিয়ে। প্রথম ইনিংসে সাত রান করা ওপেনার এবার ফেরেন শূন্যতে। আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমান ইসলামও পারেননি এবার ভরসা জোগাতে। চেইসের ড্রিফট বুঝতে না পেরে বোল্ড হয়ে যান তিনি ১৩ রানে। নতুন ব্যাটসম্যান হৃদয় দ্বিতীয় বলেই চেষ্টা করলেন ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে তেড়েফুঁড়ে মারতে। প্রথম ইনিংসেও স্লগ করার চেষ্টায় তিনি উইকেট হারিয়েছিলেন। তবে এবার যে শট খেললেন, সেটির ব্যাখ্যা হয়তো তিনিই দিতে পারবেন। যদিও, এই শটের কোনো ব্যাখ্যাই আসলে থাকতে পারে না। চেইসের শিকার হন অধিনায়ক শান্তও। জোমেল ওয়ারিক্যানও আর পিছিয়ে থাকেননি। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারি
এই বাঁহাতি স্পিনার বিদায় করে দেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজকে। ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে তখন বিধ্বস্ত অবস্থা বাংলাদেশ ইনিংসের। জাকের আলি ও নাঈম হাসান কিছুটা লড়াই করে বিপদ কাটানোর চেষ্টা করেন। চতুর্থ দিনেও সেই লড়াই চালাতে হবে তাদের। এই ম্যাচের একাদশে ছিলেন না জাকের। ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়া মোমিনুল হকের কনকাশন বদলি হিসেবে সুযোগাটা পেয়ে গেছেন হুট করে। তার দিকেই এখন তাকিয়ে দল। জাকের এবং নাঈম উভয়ে অপরাজিত ১৮ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।
এর আগে সকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দিন শুরু করে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে। আগের দিনের জুটিকে আরেকটু এগিয়ে নেন তেজনারাইন চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রেভস। তাইজুলকে স্লগ সুইপে ছক্কা মারলেও বাকি সময়টায় চান্দারপল ছিলেন বরাবরের মতোই অতি সাবধানী। ফিফটি করেন তিনি ১৬৪ বলে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের গভীর মনোযোগে চিড় ধরে আরেকটু পর। শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে ধরা পড়েন তিনি ১৮৪ বলে ৫৬ রান করে শান্তর হাতে। এরপর আরেকটি ফিফটি জুটি গড়ে তোলেন গ্রেভস ও রোস্টন চেইস। এই জুটি থামতে পারত আগেই। কিন্তু শর্ট লেগে চেইসের ক্যাচ ছাড়েন মোমিনুল। জুটি ভাঙে একটু পরই।
দলের প্রথম ৫৮ ওভারে মাত্র ৩ ওভার বোলিং পাওয়া নাঈম দারুণভাবে জ্বলে উঠে ম্যাচে ফেরান দলকে। গ্রেভসকে ৪৬ রানে এলবিডব্লিউ করে শিকার শুরু করেন তিনি। জীবন পান জশুয়া বিশপও। সহজ সেই ক্যাচ নিতে গিয়েই মাঠ পড়ে গিয়ে হেলমেটের ধাক্কায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন মুমিনুল। পরে ছিটকে যান তিনি ম্যাচ থেকেই। দুই বল পরই মিরাজ ফেরান বিশপকে। এরপর দ্রুতই শেষ তিন উইকেট নিয়ে নেন নাঈম। শূন্য রানে শেষ তিন উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৭ রানের লিড নিয়ে তখন বেশ উচ্ছ্বসিতই ছিল বাংলাদেশ। তাদের সেই খুশি দ্রুতই রূপ নেয় বিষাদে, বিভীষিকায়।












