চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর জরুরি সাধারণ সভা করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। সভায় শিক্ষক নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের সেশনজট এড়াতে ক্লাসে ফেরার পরিবেশ তৈরি করা হলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম ব্যতিরেকে শিক্ষক সমিতির পূর্বঘোষিত অন্যান্য কর্মসূচি ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহা. আবুল হাশেমের পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এই জরুরি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শিক্ষক নেতারা গত ২৮ অক্টোবর ইউজিসির পরামর্শক কমিটির সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষক সমাজের জোরালো উপস্থিতি এবং মতামত প্রদানের জন্য সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। পরবর্তীতে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, ইউজিসির পরামর্শক কমিটির সঙ্গে আলোচনার সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে কাঙ্ক্ষিত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম ব্যতিরেকে আন্দোলন কর্মসূচি চলমান থাকবে। গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই মূলত এই সংকটের সূত্রপাত হয়। নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদ এবং বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর ধারাবাহিকতায় পরদিন থেকে শুরু হয় কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি, যার ফলে টানা ৩৬ দিন চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে সংকট নিরসনে ২৮ অক্টোবর ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ–আল–মামুনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের পরামর্শক দল চুয়েট ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা–কর্মচারী, চুয়েট ছাত্রদলসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভা করেন। শিক্ষার্থীদের সেশনজট ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় গত রোববারে শিক্ষক সমিতি ও শিক্ষার্থীদের সম্মতিতে দীর্ঘ ৩৬ দিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বুধবার সশরীরে ক্লাসে ফেরেন শিক্ষার্থীরা। তবে বুধবার শিক্ষক সমিতি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, ক্লাসে ফিরলেও সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে তাদের মূল আন্দোলন ও কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।











