চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেললাইনের মাতামুহুরী উপজেলাস্থ চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির মাধ্যমে চারপাশের আট উপজেলার যাত্রীদের জন্য আসন বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সর্বস্তরের জনসাধারণ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চকরিয়া রেলস্টেশন এই কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামেন জনসাধারণ। এ সময় বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মহানগর এঙপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চান তারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের ভাষ্য– চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, ঈদগাঁওসহ আশপাশের আট উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা–বাণিজ্য ও নানা প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। অথচ চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় এতদঞ্চলের মানুষ রেলে যাতায়াতের পূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই কারণে বিকল্প পথ বেছে নিতে হচ্ছে, যা সময় ও অর্থের অপচয় বাড়ছে।
তাদের দাবি, চকরিয়া স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি চকরিয়াসহ আশপাশের আট উপজেলার যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত আসন বরাদ্দ রাখতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হবে।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী বলেন, চকরিয়াসহ আশপাশের আট উপজেলার লাখ লাখ মানুষ রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চকরিয়া স্টেশনে যাত্রাবিরতিসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না থাকায়। তাই জনস্বার্থে চকরিয়া রেলস্টেশনে অবিলম্বে ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে হবে। এই বিষয়ে কক্সবাজারের সন্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এর আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি আমরা।
এদিকে মানববন্ধনের খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার রেলওয়ে পুলিশের জিআরপি ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চকরিয়া রেলস্টেশনে পৌঁছায়। এ সময় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। রেলওয়ে পুলিশের জিআরপি ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে। তবে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কিংবা রেলওয়ের সম্পদের ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।
চকরিয়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ আবদুল মন্নান বলেন, রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি চকরিয়া থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি চকরিয়া স্টেশন অতিক্রম করে। এ সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।












