দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময়ের অচলাবস্থা কাটিয়ে আগামীকাল বুধবার থেকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। একই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি।
গতকাল সোমবার পৃথক বিবৃতিতে শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তবে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁদের আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এর আগে গত রোববার চুয়েট অডিটোরিয়ামে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় বুধবার থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা যৌথ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার আহ্বান জানান। রোববার শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকদের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়ে ক্লাসে ফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান। ক্লাসে ফিরলেও তাঁদের আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। খবর বাসসের।
এদিকে, চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসন ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে আগামীকাল বুধবার ক্যাম্পাস পরিদর্শন করবে ইউজিসির ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক ইউজিসির পূর্ণকালীন সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ–আল–মামুনের নেতৃত্বে সদস্যরা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পৃথকভাবে মতবিনিময় করবেন। ইউজিসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শিক্ষকদের সঙ্গে এবং সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন কমিটির সদস্যরা। এছাড়া দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কর্মকর্তা এবং বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। মতবিনিময়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, মতামত ও প্রস্তাবনা শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে কমিটি। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পুনরায় চালু, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করবেন তারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গত ১৮ অক্টোবরের পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গত ১৯ অক্টোবর ছয় সদস্যের এই পরামর্শক কমিটি গঠন করে ইউজিসি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বিভাগের ৩৪টি পরীক্ষা স্থগিত হয়।












