মঙ্গলরথ যাত্রা, আকাশে ফানুস উৎসবে বর্ণিল বান্দরবান

ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবের উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী

বান্দরবান প্রতিনিধি | সোমবার , ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ at ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ

বান্দরবানে নিজেদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ (প্রবারণা) উৎসবে মেতেছে মারমা সমপ্রদায়। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বান্দরবানের স্থানীয় রাজারমাঠে তিন দিনব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বান্দরবান সেনা রিজিয়নের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার প্রমুখ। এদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় পুরাতন রাজবাড়ি মাঠ থেকে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবের মূল আকর্ষণ অমঙ্গল দমনকারী ড্রাগনের আদলে তৈরি করা মঙ্গলরথে বুদ্ধমূর্তি স্থাপন করে রথটি ঐতিহ্যবাহী রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারে আসাংম্রাইকে (গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করে) বন্দনা করার উদ্দেশ্যে রশি দিয়ে টেনে নেয়া হয়। পরে সেখানে বন্দনা শেষে উজানী পাড়া বৌদ্ধ বিহারে পদমুং আসাংকে বন্দনা করার উদ্দেশ্যে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় বৌদ্ধ ধর্মের নর–নারীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এ রথযাত্রা দেখতে রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমে। এদিকে উৎসব উদযাপনকে ঘিরে স্থানীয় রাজারমাঠে শিল্পীগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া পিঠা তৈরি উৎসব এবং গৌতম বুদ্ধের স্মরণে আকাশে শত শত রঙিন ফানুস উড়ানো হয়েছে। পাহাড়ি পল্লীগুলো ছাড়াও প্রতিটি বৌদ্ধ বিহার থেকে ফানুস উড়ানো হয়।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা জানায়, তিন মাস বর্ষাবাস (উপোস) থাকার পর পাহাড়ি মারমা সমপ্রদায়ের লোকজন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে (প্রবারণা পূর্ণিমা) উৎসব পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। প্রচলিত আছে গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্ণিমায় তাঁর মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাই আশ্বিনী পূর্ণিমার এই তিথিতে আকাশে উড়ানো হয় শত শত ফানুস। পাহাড়ের মারমা সমপ্রদায় নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী ফানুস বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখাগড়াছড়িতে প্রবারণা পূর্ণিমায় ৮৪ হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন
পরবর্তী নিবন্ধআগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার চায় আকোয়া