আইমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহ আলমের ১৬ বছরের কারাদণ্ড

জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের ৪০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ

জাল স্বাক্ষর ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করে ব্যাংক থেকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে মো. শাহ আলম নামের এক ব্যবসায়ীকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. শাহ আলম (৬২) নগরীর সদরঘাট এলাকার মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এবং খুলশী থানাধীন দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকার মৃত মফজল আহমদের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন না। তিনি পলাতক। এ জন্য তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে। এই মামলার অপর আসামি হলেন তার ছেলে এস. এম. পারভেজ আলম (৪২)। তবে তদন্তে সম্পৃক্ততা না মেলায় চার্জশিটে তার অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিল তদন্ত কর্মকর্তা। এরই ধারাবাহিকতায় চার্জগঠনের সময় তিনি অব্যাহতি পান।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেছেন। রায়ে শাহ আলমকে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় ৩ বছর, ৪৬৭ ধারায় ৫ বছর, ৪৬৮ ধারায় ৩ বছর ও ৪৭১ ধারায় ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

আদালতসূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক এইচ এম আখতারুজ্জামান নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন। এজাহার অনুযায়ী, আসামি মোহাম্মদ শাহ আলম মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানের নামে দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড, খাতুনগঞ্জ শাখা, চট্টগ্রামের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। পরবর্তীতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে তার অনুকূলে ২৭ কোটি টাকার এলটিআর সুবিধা ও ২ কোটি টাকার সিসি (হাইপো) ঋণ সুবিধা মঞ্জুর করা হয়। এই ঋণ নেওয়ার আগে আসামি মোহাম্মদ শাহ আলম ও তার ছেলে এস. এম. পারভেজ আলম পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির আশ্রয় নেন। তারা মো. শাহ আলমের তিন সহোদর মো. দিদারুল আলম, মো. সোলায়মান এবং মো. ইলিয়াসের নামে ২০০৪ সালে প্রতিটি ২৫ কোটি টাকা করে মোট ৭৫ কোটি টাকার ৩টি জাল ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা সৃজন করেন। তিন ভাইয়ের স্বাক্ষর জাল করে এই জালিয়াতি করা হয়। এজাহারে আরো বলা হয়, জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া এই ঋণের বিবরণীতে দেখা যায়, দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড, খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে ২০১২ সালে ৫টি এলটিআর হিসাবের অনুকূলে ২৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৮২ টাকা এবং ১টি সিসি (হাইপো) হিসাবের অনুকূলে ২ কোটি টাকাসহ সর্বমোট ২৭ কোটি ৭৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৮২ টাকা ঋণ সুবিধা নেওয়া হয়। এর বিপরীতে মাত্র ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৪ টাকা পরিশোধ করে ২০১৪ সালের ১১ আগস্ট পর্যন্ত। ঋণের দায় বাবদ ৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ১৪ হাজার ৭১২ টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাত করা হয়। আদালতসূত্র জানায়, তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল পরবর্তী ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঢাকা-কুমিল্লা এলিভেটেড কর্ডলাইন হচ্ছে
পরবর্তী নিবন্ধআবুধাবিতে সড়কে প্রাণ গেল বোয়ালখালীর মা-ছেলের